ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৭

বাম ঐক্যের উদ্যোগ ব্যর্থ, প্রার্থী হচ্ছেন না ক্লেমেন্টিন

Printed Edition

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, ফ্রান্স থেকে

ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বামপন্থী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী বাছাইয়ের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তা ব্যর্থ হওয়ার পর পরিবেশবাদী সংসদ সদস্য ক্লেমেন্টিন অতোঁ নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার তিনি এই ঘোষণা দেন। এর আগে ফরাসি সমাজতান্ত্রিক দলের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন যে তাদের প্রাইমারি কেবল দলটির সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বৃহত্তর বামপন্থী ঐক্যের যে পরিকল্পনা ছিল, তা কার্যত ভেঙে গেল।

ফ্রান্স ২ টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লেমেন্টিন অতোঁ বলেন, সমাজতান্ত্রিক দলের অভ্যন্তরীণ ভোট ঐক্যবদ্ধ প্রাইমারির সম্ভাবনার অবসান ঘটিয়েছে। তার ভাষায়, ‘সমাজতান্ত্রিক দল তাদের ভোটের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ প্রাইমারির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে।’ তিনি মনে করেন, জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁকে বাদ দিয়ে বামপন্থী দলগুলোর মধ্যে যে যৌথ প্রার্থী নির্বাচনের চেষ্টা চলছিল, সেটি আর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

পরিবেশবাদী এই নেতা জানান, তার প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য হলো বামপন্থী ও পরিবেশবাদী শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য তৈরি করা। তার মতে, একমাত্র ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমেই বামপন্থীরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় পৌঁছানোর মতো অবস্থান তৈরি করতে পারে এবং চরম ডানপন্থার বিরুদ্ধে জয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।

সমাজতান্ত্রিক দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে অতোঁ সমালোচনা করে বলেন, দলটি বামপন্থার ঐতিহ্যগত অবস্থান থেকে সরে গিয়ে কেন্দ্র ও ডানপন্থার দিকে ঝুঁকছে। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত বাম ঐক্যের প্রচেষ্টাকে আরো কঠিন করে তুলেছে।

সমাজতান্ত্রিক দলের এই অবস্থানের পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের একাংশ, বিশেষ করে যারা প্রথম সম্পাদক অলিভিয়ে ফোরের অবস্থানের বিরোধী, তারা রাফায়েল গ্লুকসম্যানের মতো নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে পৃথক কৌশলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এর ফলে বাম শিবিরে একক প্রার্থীর প্রশ্ন আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

এদিকে ক্লেমেন্টিন অতোঁ ভবিষ্যতে জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁকে সমর্থনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, আগামী শরৎকালে যদি দেখা যায় যে মেলঁশোঁ এখনো বামপন্থীদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন, তাহলে তার দায়িত্ব হবে বাম শক্তিগুলোকে একত্রিত করার পরিবেশ তৈরি করা।

যদিও অতোঁ ও মেলঁশোঁর মধ্যে অতীতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছিল, তবুও তিনি মনে করেন বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যক্তিগত বিরোধ ও পুরনো দ্বন্দ্বকে পাশে রাখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, মেলঁশোঁর সাথে তার মতবিরোধ রয়েছে এবং তিনি তা কখনো গোপন করেননি; কিন্তু চরম ডানপন্থার মোকাবেলায় বাম ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে এখন বামপন্থী শিবিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ক্লেমেন্টিন অতোঁর প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানো সেই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনে বাম দলগুলো শেষ পর্যন্ত কোনো একক প্রার্থীর পেছনে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে কি না, নাকি বিভক্ত অবস্থায় নির্বাচনে যাবে; সেটিই এখন ফ্রান্সের রাজনীতির অন্যতম বড় প্রশ্ন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাম ভোটের বিভাজন ঠেকানো এবং চরম ডানপন্থার উত্থান মোকাবেলা করাই ২০২৭ সালের নির্বাচনে বামপন্থী দলগুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।