হাম ও উপসর্গে ৭১ দিনে প্রাণ গেল ৫৪৫ শিশুর

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১৭ শিশুর

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরো ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর একটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২২৪ শিশু। এ হিসাব ২৪ মে সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১৭ শিশুর মধ্যে সাতজন ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে তিনজন, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে দু’জন করে এবং ময়মনসিংহে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত ৭১ দিনে সারা দেশে ৫৪৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৭ শিশুর। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৫৮ শিশু।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) আট হাজার ৭১৯ শিশু। আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৬৪ হাজার ৯৪০ শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৩১ শিশুর ও আক্রান্ত ৩৬ হাজার ৭০৬ শিশু। এ হিসাব গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

মমেকে আরো ১ শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৭৭

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বশেষ আরো এক শিশুর মৃত্যুতে পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন হিসেবে মোট ৩৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক ভয়াবহ সতর্কসঙ্কেত। বর্তমানে হাসপাতালে ৭৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সর্বশেষ মারা যাওয়া ১১ মাসের কন্যাশিশুটি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দা। গত ১৩ মে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ১১ দিন জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়াই করে ২৪ মে বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

এ দিকে ঈদকে সামনে রেখে মানুষের চলাচল বাড়ার প্রেক্ষাপটে সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি যে আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে- সেটিই এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা।

আইসিইউ সঙ্কটে বাড়ছে মৃত্যু

এ দিকে মমেক হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ৬৪টি, অথচ রোগী ভর্তি শতাধিক। এতে বাধ্য হয়ে অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি আরো বাড়াচ্ছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, মৃত অধিকাংশ শিশুরই আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল। কিন্তু শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, পর্যাপ্ত আইসিইউ থাকলে অনেক শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হতো।