স্থলভাগের গ্যাস উত্তোলনের ‘পিএসি’ চূড়ান্ত অনুমোদন হচ্ছে কাল

থাকছে না রফতানির সুযোগ

Printed Edition

সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু

দেশের স্থলভাগে (অনশোর) তেল-গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করতে দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন করে ‘প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক ২০২৬’ (অনশোর পিএসসি)’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন করতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত পিএসসিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের (ইৎবহঃ ঈৎঁফব) ওপর ভিত্তি করে গ্যাসের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার হার প্রায় ৮-১০ শতাংশ হতে পারে। বিশ^বাজারে গ্যাসের দামের চেয়ে ৮ থেকে ১০ শতাংশ বেশি দাম দিয়ে পেট্রোবাংলা গ্যাস উত্তোলনকারী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে গ্যাস কিনবে।

আলোচ্য পিএসসিতে গ্যাস রফতানি ওপর নিষেধাঞ্জা দেয়া হচ্ছে। ফলে পূর্ববর্তী অন-শোর চুক্তিগুলোর ধারাবাহিকতায় স্থলভাগ থেকে উত্তোলিত গ্যাস দেশের বাইরে রফতানির কোনো সুযোগ রাখা হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই পিএসসি,২০২৬ এর খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন করা হতে পারে।

বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে ৪৭টি ব্লকে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনশোর (স্থলভাগ) ব্লক-২১টি (সমতলে ২০টি ও পার্বত্য এলাকায় একটি) এবং অফশোর (সমুদ্রাঞ্চল) ব্লক রয়েছে ২৬টি। এই ব্লকগুলোতে উৎপাদন-বণ্টন-চুক্তির (পিএসসি) আওতায় আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোকে(আইওসি) নিয়োজিত করা হয়েছে। বর্তমানে অনশোরের চারটি ব্লকে পিএসসির আওতায় দুটি আইওসি গ্যাস উত্তোলন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এই দু’টি আইওসি হচ্ছে শেভরন বাংলাদেশ ও টাল্লো বাংলাদেশ।

অনশোরের ২১টি ব্লকে আইওসিদ্বয়ের পাশাপাশি তিনটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গ্যাস উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশীয় উৎপাদিত গ্যাসের (দৈনিক ১৭৫ কোটি ঘনফুট) প্রায় ৫৫ শতাংশ দু’টি আইওসি কর্তৃক উৎপাদিত হয়। এ পরিস্থিতিতে দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সমন্বয়ের লক্ষ্যে অনশোরের অন্যান্য ব্লকে পিএসসির আওতায় আইওসি নিয়োজিত করার মাধ্যমে আরো বেশি গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি হয়ে পরেছে।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০১৯ সালে অনশোর মডেল পিএসসি প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেই মডেলকে হালনাগাদ ও যুগোপযোগী করে বর্তমান পিএসসির খসড়া করা হয়েছে। এই খসড়াটি গত ৭ মে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কয়েকটি পর্যবেক্ষণসহ অনুমোদন করা হয়। খসড়া অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ এর সেসব শর্তাবলি পরিমার্জনপূর্বক লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং গ্রহণ করা হয়েছে। এখন এই খসড়া পিএসসি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থনৈতিকবিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উত্থাপন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, মডেল পিএসসিতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য শুল্ক ও কর রেয়াতের সুবিধা দেয়া হবে। শুধু তা-ই নয়, তারা বিনিয়োগ অর্থ শতভাগ বিদেশী নিয়ে যেতে পারবে। অর্থাৎ, আইওসি তাদের মুনাফা ও মূলধনের শতভাগ বিদেশী নিয়ে যেতে পারবে। এ ছাড়াও ব্যর্থ কূপ খননের বেলায় তাদের আর্থিক সুবিধা দেয়া হবে। অর্থাৎ, আইওসি যদি কোনো কূপ খননের পর গ্যাসের সন্ধান না পায় তবে সে ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেয়ার কথা পিএসসি ২০২৬-এ উল্লেখ থাকছে বলে জানা গেছে।