ছাত্রত্ব শেষেও হলে অবস্থানের প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান জাকসু নেতাদের

Printed Edition

জাবি প্রতিনিধি

ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত হলে অবস্থান করতে পারবেন- প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন জাকসু নেতারা।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বারিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিার্থী সংসদ (জাকসু) এবং হল সংসদগুলোর বিভিন্ন পদে নির্বাচিত শিার্থীরা তাদের সংশ্লিষ্ট পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাদ্দকৃত হলে অবস্থান করতে পারবেন। প্রশাসনের এমন বিশেষ সুবিধার আদেশ সামনে আসতেই তার তীব্র প্রতিবাদ জানান জাকসু প্রতিনিধিরা।

জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, ‘মাননীয় উপাচার্য স্যার, এ রকম কোনো অন্যায় দাবি জাকসু থেকে আমরা করিনি। কার পরামর্শে এবং কোন আইনের বলে আপনি এসব করছেন? আমরা আপনার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করলাম। আশা করি আপনি আপনার এই অফিস আদেশ প্রত্যাহার করবেন।’

সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি ােভ জানিয়ে এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিার্থীর ছাত্রত্ব শেষ হলে অবশ্যই তাকে হল ত্যাগ করতে হবে। এ েেত্র শিার্থী প্রতিনিধি বা অন্য কারো জন্য অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে সাধারণ শিার্থীদের তিগ্রস্ত করার অধিকার কারো নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ অফিস আদেশের মাধ্যমে শিার্থী প্রতিনিধিদের ছাত্রত্ব শেষ হলেও হলে থাকার যে অনুমোদন দেয়া হয়েছে, একজন শিার্থী প্রতিনিধি হিসেবে এটি আমাদের জন্য অসম্মানজনক। সিদ্ধান্ত নেয়ার েেত্র কোনো প্রতিনিধির সাথে আলোচনাও করা হয়নি। এটি শিার্থী ও প্রতিনিধিদলের মাঝে বৈষম্য তৈরি করছে, যা অনাকাক্সিত ও অগ্রহণযোগ্য।’

জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ধরনের হঠাৎ ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য দুঃখজনক। আমরা এতে অবাক হয়েছি। জাকসু বডির সাথে এ বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। জাকসু নির্বাচনের গঠনতন্ত্র সংশোধন না করে এবং জাকসুর গঠনতন্ত্রের সাথে সামঞ্জস্য না রেখেই এমন সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর মাধ্যমে হলে অবৈধ অবস্থানকে বৈধতা দেয়ার সুযোগ তৈরি হবে। জাকসুর মাধ্যমে এমন বৈধতা দেয়ার প্রশাসনের আগ বাড়িয়ে নেয়া সিদ্ধান্তের আমরা প্রতিবাদ করছি।’