শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে বিােভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীরা। সমাবেশ থেকে আগামী রোববারের মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে বিােভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি অ্যাকাডেমিক ভবন ‘ই’ প্রদণি করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংপ্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব রিয়াজ রিমন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতিনিধি থাকলেও শিার্থীদের কোনো প্রতিনিধি নেই। শিার্থীদের সমস্যা নিয়ে কথা বলার মতো কেউ নেই। তাই প্রশাসনকে উদ্যোগ নিয়ে শিার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
ভিসিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে আপনি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, শাকসু নির্বাচন হলে জাতীয়তাবাদী শিকরা কোনো সহযোগিতা করবেন না। তার বিনিময়ে তারেক রহমান সরকার আপনাকে শাবিপ্রবির ভিসি বানিয়েছেন। আপনি আপনার পুরস্কার পেয়েছেন।
এখন আপনি শিার্থীদের শাকসু নির্বাচন দিয়ে দিন।’
ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক শাকিল মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি ও ছাত্রদলের ষড়যন্ত্রের কারণেই শাকসু নির্বাচনের একদিন আগে নির্বাচন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এটা আমাদের সকলের কাছে পানির মতো পরিষ্কার।’
তিনি আরো বলেন, ‘আপনার রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। কিন্তু আপনি যখন ভিসির দায়িত্বে আছেন, তখন আপনি ৯ হাজার শিার্থীর ভিসি। রাজনৈতিক পরিচয় এক পাশে রেখে শিার্থীদের অধিকার রা করাই আপনার প্রধান দায়িত্ব।’
প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে শাকিল মাহমুদ বলেন, ‘রোববারের মধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা না করলে আপনাকে অতীত স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। শিার্থীদের যৌক্তিক দাবির কারণে অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় মাসের পর মাস বন্ধ ছিল। আপনারা যদি শিার্থীদের দাবিকে উপো করেন এবং আমাদের সাথে বসে রোডম্যাপ ঘোষণা না করেন, তাহলে আবারো সে পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’
জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আবরার রাশিদ বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসনের যোগসাজশে যেভাবে শাকসু নির্বাচন বন্ধ হয়েছে, বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সেটিকে পুনরুদ্ধার করে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনও আগের প্রশাসনের সঙ্গে যেভাবে হাঁটছে, এর ফল আমরা খুব একটা সুখকর মনে করছি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জুলাই থেকে উঠে আসা মানুষ। আমরা চাই, এই প্রশাসন ও এই সরকার শিার্থীদের স্পিরিটটা বুঝুক। যদি শিার্থীদের স্পিরিট বুঝতে ব্যর্থ হয়, যদি শিার্থীদের চাওয়া-পাওয়া বুঝতে এ সরকার ও প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তবে এর পরিণাম খুব একটা সুখকর হবে বলে আমরা মনে করি না।’



