যশোরে সড়ক-ফুটপাথ দখলে বাড়ছে ভোগান্তি কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় নগরবাসী

এম আইউব, যশোর অফিস
Printed Edition

যশোর শহর ও শহরতলির অধিকাংশ সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নির্মাণসামগ্রী, অবৈধ পার্কিং, দোকানপাট ও নানা ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যানজট, দুর্ঘটনা, জলাবদ্ধতাসহ নানা নাগরিক সমস্যা বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় সড়কের একাংশ দখল করে ইট, বালি, রড ও সিমেন্ট রেখে বহুতল ভবন নির্মাণ চলছে। কোথাও রাস্তার ওপরই ওয়েল্ডিং, পাইপ তৈরি বা কাঠ প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ করা হচ্ছে। আবার অনেক স্থানে বাস, ট্রাক ও প্রাইভেটকার পার্কিংয়ের জন্য সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে।মুজিব সড়কের রেলগেট তেঁতুলতলা এলাকায় প্রধান সড়ক দখল করে নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। চাঁচড়া ডালমিল এলাকায় রাস্তার ওপর মালামাল রেখে বিক্রি করা হচ্ছে, পাশাপাশি চলছে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ। চাঁচড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওহেদ সেকেন্দার লুলু বলেন, রাস্তার একাংশ দখল হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। শহরতলির ধর্মতলা রেলক্রসিং ও বাজার এলাকায় ফুটপাত দখল করে নির্মাণকাজ এবং ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। ধর্মতলা বাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নবীরুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি জায়গা দখল হওয়ায় গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো জায়গা নেই। অনেক স্থানে ড্রেন দখল হওয়ায় পানি নিষ্কাশনও ব্যাহত হচ্ছে।’

আরবপুর, দিঘীরপাড়, খয়েরতলা, বাবলাতলা, পালবাড়ি, কাঁঠালতলা, নিউমার্কেট, ঢাকা রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও রাস্তার পাশে বাঁশের আড়ৎ, কোথাও রড, ইট-বালি বা কৃষিপণ্য স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আবার অনেক স্থানে হাঁস-মুরগি বা তরমুজ বিক্রির জন্য রাস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। মণিহার এলাকা ও বিজয় স্তম্ভের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বাস, সিএনজি ও টেম্পুর পার্কিং চলছে, যা যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

শহরের বেজপাড়া, শংকরপুর, খড়কি, রেলরোড, বড়বাজার ও হাটখোলা এলাকাতেও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। অনেক দোকানি দোকানের সামনে রাস্তার ওপর পণ্য সাজিয়ে বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব দখলের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করা হয়।

এ বিষয়ে যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শাহীন বলেন, জেলা পরিষদের আওতাধীন সড়কের পাশের দখলকৃত জায়গা চিহ্নিত করে উচ্ছেদে উদ্যোগ নেয়া হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান জানান, ঈদ উপলক্ষে আপাতত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ঈদের পর সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।