স্টেডিয়ামে বাজানো গানগুলো যেভাবে বাছাই করা হয়

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামে বাজতে থাকা গানগুলো অনেক দর্শকেরই নজর কেড়েছে। তবে এসব গান কোনোভাবেই এলোমেলোভাবে নির্বাচন করা হয় না। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, তাদের ‘স্টেডিয়াম এন্টারটেইনমেন্ট টিম’ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ফুটবল ফেডারেশনের সাথে সমন্বয় করে আগেভাগেই ৭৫০টিরও বেশি গানের একটি তালিকা তৈরি করে।

প্রতিটি দলের জন্য আলাদা ‘সিগনেচার’ গান, ওয়ার্ম-আপের গান, গোল উদযাপনের গান এবং ম্যাচ জিতলে সমর্থকদের সাথে গাওয়ার জন্য একটি বিশেষ গান নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিটি দেশের সংস্কৃতি ও ফুটবল ঐতিহ্যও তুলে ধরা হয়।

তবে কিছু গান বিশ্বজুড়েই সমান জনপ্রিয়। যেমন- ‘সেভেন নেশন আর্মি, থান্ডারস্ট্রাক, ফ্রিড ফরম ডিজায়ার এবং ওন এ প্রেয়ার । ফুটবল চ্যান্ট বিষয়ক লেখক অ্যান্ড্রু লনের মতে, সহজে গাওয়া যায়, আকর্ষণীয় এবং স্মরণীয় সুরের কারণেই এসব গান স্টেডিয়ামে দীর্ঘদিন জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। কোনো ঐতিহাসিক জয় বা আবেগঘন মুহূর্তের সাথে যুক্ত হলে সেই গান আরো বেশি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। দেশভেদেও গানের পছন্দে রয়েছে বৈচিত্র্য। আর্জেন্টিনা বেছে নিয়েছে এল মাতাদোরো, ফ্রান্সের গোল উদযাপনে বাজে ড্যাফট পাঙ্কের ‘রয়ান মোর টাইম’, অস্ট্রেলিয়ার পরিচিতি গান ‘ডাউন আন্ডার’, আর দক্ষিণ কোরিয়া স্টেডিয়ামে শোনায় জনপ্রিয় কে-পপ শিল্পীদের গান।

ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে ওয়ান্ডারওয়াল নতুন মাত্রা পেয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর হাজারো সমর্থকের একসাথে গান গাওয়া এতটাই সাড়া ফেলে যে সেটি এখন ইংল্যান্ডের ম্যাচ শেষে নিয়মিত বাজানো হচ্ছে। অধিনায়ক হ্যারি কেনও এই মুহূর্তকে জাতীয় দলের হয়ে নিজের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ফিফার এই পরিকল্পনা বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচকে শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, বরং সঙ্গীত, সংস্কৃতি ও সমর্থকদের আবেগের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত করেছে।