চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফৌজদারহাট সমুদ্র উপকূলঘেঁষা ডিসি পার্ক এখন যেন ফুল, জল আর প্রাণের এক অপূর্ব সহাবস্থানের নাম। নিরিবিলি পরিবেশে গড়ে ওঠা এই পার্কটি ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ ইকো-সিস্টেমে। ফুলের সৌরভে ভেসে বেড়াচ্ছে প্রজাপতি, মৌমাছি ও ফড়িং। জলাশয়ে চোখে পড়ে পানকৌড়ি আর রঙিন মাছের ছুটে চলা। সব মিলিয়ে প্রকৃতি এখানে আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
১৯৪ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত ডিসি পার্কে এবার ১৪০ প্রজাতির ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে বাগান। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মাসব্যাপী ফুল উৎসবের চতুর্থ আসর শুরু হয়েছে গত শুক্রবার। এই উৎসব চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিবারের মতো এবারো ফুলপ্রেমী দর্শনার্থীদের ঢল নামবে। এমনটাই প্রত্যাশা পার্ক কর্তৃপক্ষের।
এবারের ফুল উৎসবে যুক্ত হয়েছে নতুন চমক ‘জিপ লাইন’। এক ফুল বাগান থেকে জিপ লাইনে চড়ে পুকুর পেরিয়ে অন্য বাগানে যাওয়ার সুযোগ থাকছে রোমাঞ্চপ্রিয় দর্শনার্থীদের জন্য। পাশাপাশি রয়েছে গণভোট প্রচারণাবিষয়ক বিশেষ কর্নার। উৎসবের উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এহছানুল হক।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানান, ডিসি পার্কের ফুল উৎসব এখন শুধু চট্টগ্রামের আয়োজন নয়, বরং সারা দেশের মানুষের আনন্দঘন মিলনমেলা। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা পার্ক উপভোগ করতে পারবেন। বিকেল ৪টা থেকে প্রতিদিনই থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মাসজুড়ে ভায়োলিন শো, কাওয়ালি সন্ধ্যা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনবিষয়ক স্টল, জুলাই ও হাদি কর্নারসহ নানা আয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে বসবাসরত ১৬টি দেশের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ সংস্কৃতি তুলে ধরবেন।
এবার ফুলের বিস্তৃতিও বেড়েছে। জোড়া পুকুরের পূর্ব ও পশ্চিম, দুই পাশেই ফুলের সমারোহ। নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে জায়ান্ট ফ্লাওয়ার, ট্রি হাউজ, ট্রিপল হার্ট শেইপ, ট্রেন, বক ও ময়ূরের অবয়ব। বিদেশী ফুলের মধ্যে লিলিয়াম, ম্যাগনোলিয়া, ক্যামেলিয়া যেমন নজর কাড়ছে, তেমনি দেশী গাঁদা, জবা, কৃষ্ণচূড়া ও চন্দ্রমল্লিকাও রঙ ছড়াচ্ছে সর্বত্র।
পার্কের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে বিনোদনের নানা উপকরণ, পুকুরে কায়াকিংয়ের ব্যবস্থা আর খাবারের স্টল ও গ্রামীণ মেলা দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ দিচ্ছে। সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লা আল মামুন বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুল উৎসব হিসেবে ডিসি পার্ক ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা বাড়ায় প্রতিবারই নতুন থিম ও আয়োজন যুক্ত করা হচ্ছে। এবার তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ এই জিপ লাইন।



