নয়া দিগন্ত ডেস্ক
অধিকৃত পশ্চিমতীরে ব্যক্তিমালিকানাধীন দুই হাজার ৯৩ ডুনাম (প্রায় ৫১৭ একর) ফিলিস্তিনি জমিকে লক্ষ্য করে চলতি বছরের শুরু থেকে ৪৯টি সামরিক আদেশ জারি করেছে ইসরাইল। আনাদোলু এজেন্সি জানায়-ফিলিস্তিনি কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্যমতে, এসব আদেশে জমির মালিকানা পরিবর্তন না হলেও গাছ কাটা, জমিতে প্রবেশ ও চাষাবাদে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কমিশন বলছে, এসব পদক্ষেপ মূলত ইসরাইলি বসতি, বসতি-সংযোগ সড়ক, বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রাচীর ও সামরিক ঘাঁটির আশপাশে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা কার্যত ওই এলাকায় ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করছে। একই খবরে বলা হয়, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে পশ্চিমতীরে বসতি স্থাপনকারীরা তিন হাজার ৪৮৮টি হামলা চালিয়েছে।
গাজায় ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৫
গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও গতকাল ইসরাইলি বাহিনীর পৃথক হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে একটি ৯ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। চিকিৎসা সূত্র ও ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু। রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, গাজা সিটির দক্ষিণের সাবরা এলাকায় একটি কর্মশালায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় দু’জন নিহত ও একজন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আল-রাইয়েস এলাকায় অবস্থিত ভবনটিতে অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এ ছাড়া মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি গুলিতে আহত ৯ বছর বয়সী এক শিশুকন্যা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চলে গত শুক্রবারের হামলায় আহত এক ফিলিস্তিনি এবং দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বে ড্রোন হামলায় আহত আরেক ব্যক্তি পরে মারা যান। এ দিকে খান ইউনুসের দক্ষিণাঞ্চল ও গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় এক হাজার ৯৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং তিন হাজার ৫৩৫ জন আহত হয়েছেন।
গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে সুইডেনে বিক্ষোভ
গাজায় ইসরাইলের হামলা, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধার প্রতিবাদে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। বেশ কয়েকটি সুশীল সমাজ সংগঠনের ডাকে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। গত শনিবার ওডেনপ্লান চত্বরে জড়ো হয়ে তারা এই প্রতিবাদ জানান। ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে নানা সেøাগান দেন। এ সময় তারা গাজার ওপর থেকে অবিলম্বে অবরোধ তুলে নেয়ার দাবি জানান। একই সাথে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরাইল লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। সুইডিশ ইহুদি অধিকারকর্মী এবং ‘ইউরোপিয়ান জুস ফর অ্যা জাস্ট পিস’-এর চেয়ারম্যান ড্রর ফেইলার আনাদোলুকে জানান, বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনিদের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সমতার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার ছাড়া অর্জিত শান্তি কোনো প্রকৃত শান্তি নয় এবং এটি শেষ পর্যন্ত আরেকটি যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে।’
গাজায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ফেইলার।



