কূটনৈতিক প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সাথে জাপানের সই হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি পর্যালোচনা করবে বিএনপি সরকার।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এ কথা জানান। এর আগে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় হুমায়ুন কবির ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া।
হুমায়ুন কবির বলেন, জাপানের রাষ্ট্রদূত প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা তুলে ধরেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তিটা করেছে। দেখি অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের জন্য কী রেখে গেছে। সেটা দেখে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো। চুক্তিটা বাংলাদেশের স্বার্থের ভিত্তিতে হলে অব্যাহত থাকতে পারে। আর স্বার্থের ভিত্তিতে না হলে বিবেচনা করে দেখতে হবে।
জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেছি। এটা যেন মসৃণভাবে চলে, সেটা বলেছি। আমরা দক্ষ কর্মী প্রসঙ্গে আলাপ করেছি। বাংলাদেশ থেকে জাপানে দক্ষ কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে আমরা সহায়তা করব।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, কৌশলগত অংশীদারিত্ব, ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যু, মাতারবাড়ী প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
জাতীয় নির্বাচনের কিছুদিন আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাপানের সাথে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তাস্তর বিষয়ক চুক্তি সই করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই চুক্তিতে জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে একটি আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় অবদান রাখা প্রকল্পগুলো যৌথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। চুক্তিটি জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে হস্তান্তর করা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর বা কোনো অতিরিক্ত উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে।
এ দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) মহাসচিব গোলাম সারওয়ার সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্ক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত ও শক্তিশালী করার জন্য বাংলাদেশের সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং সংস্থাটির প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। খলিলুর রহমান বলেন, সার্কের নীতিমালার মধ্যে রয়েছে সার্বভৌম সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জনগণের পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করা। সার্কের এই নীতিমালার প্রতি বাংলাদেশ অঙ্গিকারবদ্ধ।



