৭ বছরেও শেষ হয়নি বংশী নদীর সেতুর কাজ, ঠিকাদার উধাও

Printed Edition
আশুলিয়ায় বংশী নদীর ওপর অসমাপ্ত সেতু : নয়া দিগন্ত
আশুলিয়ায় বংশী নদীর ওপর অসমাপ্ত সেতু : নয়া দিগন্ত

তুহিন আহামেদ আশুলিয়া (ঢাকা)

ঢাকার আশুলিয়ায় বংশী নদীর ওপর নির্মাণাধীন নলাম সেতুর কাজ শুরু হওয়ার প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেলেও তা শেষ হয়নি। কাজের অগ্রগতি ৮৩ শতাংশে থেমে থাকায় সেতুটি চালু করা যাচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজটি বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ২৫০ মিটার দীর্ঘ নলাম সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ (জেভি)। চুক্তিমূল্য ছিল ২১ কোটি ৫৩ লাখ ১৭ হাজার ১৮৪ টাকা। কাজ শুরুর পর ধীরগতিতে নির্মাণকাজ চললেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষ হয়নি। দীর্ঘ সময়েও কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

সেতুটি নির্মিত হলে নলাম, উনাইল, মাইঝাইল, পাইচাইল, ধামসোনা, গোপালবাড়ি, শিমুলিয়াসহ আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু চালু হলে কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে পারলেও বর্তমানে বিকল্প পথে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। এতে শিক্ষার্থী, পোশাকশ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, নদী পারাপারে একটি নৌকা থাকলেও এতে সময় লাগে ১ ঘণ্টার বেশি। ফলে কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সময়মতো পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। কৃষকরাও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে সমস্যায় পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে বাজারে যেতে হচ্ছে।

সাভার উপজেলা প্রকৌশলী মিনারুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সেতুটির ৮৩ শতাংশ কাজ হয়েছে। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজ বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যাপক জনদুর্ভোগ হচ্ছে। ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করেও কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তাই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাতিল প্রক্রিয়া শেষ হলে নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।