৪ মাস পর হরমুজ অতিক্রম করেছে বিএসসির জাহাজ

৩১ ক্রু ও পরিবারে স্বস্তি

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম

অবশেষে প্রায় চার মাস পর হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন কার্গো জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ (আইএমও : ৯৭৯৩৮২০)। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সফলভাবে অতিক্রম করে জাহাজটি। এর মধ্য দিয়ে ৩১ ক্রু ও তাদের পরিবারে যেমনি স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন বিশাল সম্পদও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে।

২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটি বর্তমানে নিরাপদ বাংকারিং ও প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফুজাইরা বন্দরের জলসীমার দিকে সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

জাহাজটির মাস্টার ক্যাপ্টেন শফিক মহান রবের শুকরিয়া আদায় করে নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, বাঙ্কারিং শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে কার্গো খালাসের উদ্দেশ্যে রাওয়ানা দেবেন। জাহাজটিতে কর্মরত ৩১ বাংলাদেশী ক্রুর সবাই সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ ‘চোক-পয়েন্টে’ পরিণত হয়েছে। যুদ্ধ-ঝুঁকি বীমা প্রিমিয়ামের রেকর্ড ঊর্ধ্বগতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে সীমিত হওয়ার এই জটিল বাস্তবতায়, সরকারের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সফলতায় ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’র এই নিরাপদ ট্রানজিট জাতীয় মেরিটাইম খাতের সক্ষমতার এক ঐতিহাসিক জয়। বিএসসির ইতিহাসে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন ক্রাইসিস মোকাবেলার নজির যেমন বিরল, তেমনই তা বিশ্ব মেরিটাইম খাতে বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।

নাবিকদের মনোবল ও লজিস্টিক সহায়তা : দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার এই সঙ্কটকালীন পুরো সময় জুড়ে জাহাজের ৩১ বাংলাদেশী নাবিক ও ক্রুর মনোবল সমুন্নত রাখতে বিএসসি ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিল অভূতপূর্ব সব পদক্ষেপ। জাহাজে সুপেয় পানি, খাবার, রসদ ও জ্বালানি তেলের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহে কখনোই কোনো ঘাটতি হতে দেয়া হয়নি। পাশাপাশি নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধার অতিরিক্ত হিসেবে বিশেষ অনুমোদন সাপেক্ষে দৈনিক ৫ মার্কিন ডলার বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদের বিশেষ প্রণোদনা এবং ‘ওয়ার ওয়েজ’ দেয়া হয়েছে।

সরকার, মন্ত্রণালয় ও বিএসসি ম্যানেজমেন্টের যৌথ অ্যাকশন প্ল্যান ও তদারকি : বিএসসি দাবি করেছে- এই জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সদিচ্ছা, দূরদর্শিতা ও সাহসী নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জাতীয় সঙ্কটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টির ওপর সার্বক্ষণিক নিবিড় নজরদারি রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।

একই সাথে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া ভিডিও কনফারেন্স ও ফোনালাপের মাধ্যমে জাহাজের ক্যাপ্টেন ও নাবিকদের সাথে নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে জাহাজটি যখন হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা অতিক্রম করছিল, তখন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিএসসির টপ ম্যানেজমেন্ট মেরিন ট্রাফিকের মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে জাহাজের প্রতি মুহূর্তের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং লাইভ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।