নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী কয়েক দিন সারা দেশে মাঝারি ধরনের বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণেরও পূর্বাভাস রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে সারা দেশেই বৃষ্টি বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আজ শনিবার দেশের বেশির ভাগ বিভাগেই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়া অফিস বলছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম হয়ে বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করেছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে দেশের বিচ্ছিন্ন এলাকায় মাঝারি ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বা ভারী বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের কৃষির জন্য একদিকে যেমন কিছু উপকার বয়ে আনে, অন্য দিকে অনেক ফসলের জন্য তা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে বৃষ্টির পরিমাণ, কতদিন জলাবদ্ধতা থাকে এবং কোন অঞ্চলে কী ধরনের ফসল চাষ হচ্ছে তার ওপর। আমন ধানের কিছু ক্ষতি হতে পারে। সদ্য রোপণ করা আমন ধানের চারা দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকলে শিকড়ে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। অতিরিক্ত স্রোতে চারা ভেসে যেতে পারে। জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। বেগুন, মরিচ, টমেটো, শসা, পেঁপে, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন সবজির জমিতে পানি জমে গাছ পচে যাচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ছত্রাকজনিত রোগ ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ দ্রুত বেড়ে যায়। এজন্য কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে বালাইনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় প্রাকৃতিক বালাই নাশক ব্যবহার করতে পারলে। কলা গাছ ঝড়ে ও অতিবৃষ্টিতে ভেঙে পড়তে পারে। বৃষ্টিতে পেয়ারা, লেবুসহ বিভিন্ন ফলেও ছত্রাকজনিত রোগ বাড়তে পারে।
করণীয় হিসেবে কৃষকদের বলা হয়েছে, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন। জমিতে নালা কেটে অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত চারা আবার রোপণ করুন। যেখানে চারা নষ্ট হয়েছে সেখানে নতুন চারা লাগাতে হবে।
রোগবালাই পর্যবেক্ষণ করুন। পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী ছত্রাকনাশক বা প্রয়োজনীয় বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে।
অতিবৃষ্টিতে নাইট্রোজেন ধুয়ে যেতে পারে, পানি নেমে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরিয়া টপ ড্রেসিং দেয়া যেতে পারে। সবজি ক্ষেতে উঁচু বেডে চাষ করলে জলাবদ্ধতার ক্ষতি কিছুটা কমে।



