কুকুরের সাথে রিকশার ধাক্কা, ফেসবুকে ছড়াল ‘জামায়াতের হামলা’

অস্থিরতার হাতিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া

আবুল কালাম
Printed Edition

ঘটনাটি গত ২৮ জানুয়ারির। মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রোমানা আহমেদ এবং জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি সাবিহা সুলতানা নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কোলার মোড়ে তাদের চলন্ত রিকশাটি একটি কুকুরের সাথে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এই দুর্ঘটনায় রোমানা আহমেদের হাত ভেঙে যায় এবং সাবিহা সুলতানার দাঁত ভেঙে চোখে গুরুতর আঘাত লাগে।

দুর্ঘটনা যেভাবে ‘হামলা’ হলো : আহত বিএনপি নেত্রী রোমানা আহমেদ ঘটনার পরপরই হাসপাতালের বিছানায় ব্যান্ডেজ করা অবস্থায় নিজের ও সাবিহা সুলতানার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, কুকুরের সাথে ধাক্কা লেগে রিকশা উল্টে তারা আহত হয়েছেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই কুচক্রী একটি মহল তার সেই ছবিগুলো ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার শুরু করে যে, ‘জামায়াতের সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে’।

‘তাজা খবর’ নামের একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমও কোনো প্রকার যাচাই ছাড়াই ‘বিএনপি প্রার্থীর প্রচারে নারী নেত্রীদের ওপর জামায়াতের হামলা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। এতে এলাকায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অস্থিরতা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ফ্যাক্ট চেকে বেরিয়ে এলো সত্য : গুজবের ডালপালা ছড়াতে দেখে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’ বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করে। তারা রোমানা আহমেদের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পায়, তিনি শুরু থেকেই একে সড়ক দুর্ঘটনা বলে এসেছেন। গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ২৯ জানুয়ারি রাত ১টার দিকে রোমানা আহমেদ আরেকটি ফেসবুক পোস্ট দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

তিনি লিখেন, ‘আমাদের রিকশার সাথে কুকুরের এক্সিডেন্ট হয়। এটাই আসল ঘটনা। কে বা কারা এই সত্য ঘটনাকে মিথ্যা ও বানোয়াট বানিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে যে আমাদেরকে জামায়াতের সন্ত্রাসী বাহিনী মেরেছে! আমি বলতে চাই এরকম মিথ্যা কথাগুলো বলবেন না, এতে আমার দল বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে সোশ্যাল মিডিয়াকে এখন মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই তথাকথিত অনেক গণমাধ্যম এসব গুজব ভাইরাল করে দিচ্ছে, যার ফলে অনেক সময় প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটে যাচ্ছে। মেহেরপুরের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, একটি সাধারণ দুর্ঘটনাকেও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির কাজে কত ভয়াবহভাবে ব্যবহার করা হতে পারে।

প্রকৃতপক্ষে, বিএনপি নেত্রীদ্বয় জামায়াতের কোনো হামলার শিকার হননি, বরং রিকশা উল্টে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সত্যতা রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্যে অন্ধবিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।