সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু
বাংলাদেশ-ভারত মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসারে এবং বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের আওতায় এই উন্নয়ন কাজ সম্পাদন করা হবে। সম্প্রতি সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার পিএলসি-কে এ কাজের ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচন করা হচ্ছে। এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে একনেক সভায় তিন হাজার ৪৫৭.১৫ কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। বিশ্বব্যাংকের দুই হাজার ৮১০.৭০ কোটি টাকা ঋণ এবং বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে বেনাপোল, ভোমরা ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন, ট্রান্সশিপমেন্ট শেড, ইয়ার্ড নির্মাণ এবং অটোমেটেড ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বর্তমানে কোনো অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের এডিপিতে এ প্রকল্পের জন্য ৭৮৩.০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পুনঃদরপত্র আহ্বান ও বিশ্বব্যাংকের সায়
জানা গেছে, পূর্বে এ প্যাকেজটির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন নৌপরিবহন উপদেষ্টার নির্দেশে ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ’ পুনঃদরপত্রের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ধারাবাহিকতায় পাঁচ সদস্যের দাফতরিক প্রাক্বলন কমিটি প্রায় ২০০ কোটি টাকা (১৯৯.৯৯ কোটি) প্রাক্বলিত ব্যয় নির্ধারণ করে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ই-জিপিতে পুনঃদরপত্র আহ্বান করে।
সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী উন্মুক্ত এ দরপত্রে মোট ১০টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। তবে পরবর্তীতে প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব হওয়ায় পিপিআর-২০২৫ অনুসরণ করে দরপত্রের বৈধতার মেয়াদ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এতে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান সম্মতি প্রদান করায় বাকি সাতটি প্রতিষ্ঠান নন-রেসপন্সিভ হয়ে পড়ে।
দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক পর্যালোচনার পর প্রতিবেদন বিশ্বব্যাংকের ‘স্টেপ’ সিস্টেমে পাঠানো হলে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক এ প্রস্তাবে তাদের চূড়ান্ত অনাপত্তি প্রদান করে।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মূল্যায়ন কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈধ তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার পিএলসি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়। তারা দাফতরিক প্রাক্বলিত ব্যয়ের চেয়ে ২৪.৯০১% কমে মোট ১৫০ কোটি ১৯ লাখ ৩১ হাজার ৯৫৭ টাকা দর প্রস্তাব করেছে। অন্য দুই প্রতিযোগী ‘এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড’ ১৫৫.৫০ কোটি টাকা (২২.২৪৪% কম) এবং ‘মনিকো লিমিটেড’ ১৫৬.১২ কোটি টাকা (২১.৯৩৩% কম) প্রস্তাব করে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হলে বেনাপোল স্থলবন্দরের পণ্য খালাস, সংরক্ষণ, ড্রাইভার ও যাত্রীদের পারাপার এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ব্যাপকভাবে উন্নত হবে। পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্য পরিচালনা আরো দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন মিললেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যাদেশ প্রদান করে ১৮ মাসের মধ্যে এ নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।



