লালমোহনে দুই মাসেও মেরামত হয়নি ভেঙে পড়া ব্রিজ

Printed Edition
লালমোহনে ভেঙে পড়া বেতুয়া খালের ব্রিজ : নয়া দিগন্ত
লালমোহনে ভেঙে পড়া বেতুয়া খালের ব্রিজ : নয়া দিগন্ত

মাকসুদুর রহমান পারভেজ লালমোহন (ভোলা)

ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব চরউমেদ গ্রামের ডা: আজাহার উদ্দীন সড়কসংলগ্ন বেতুয়ার খালের ওপর নির্মিত আয়রন ব্রিজটি ভেঙে পড়ার দুই মাস অতিবাহিত হলেও নতুন সেতু নির্মাণ অথবা ভেঙে পড়া সেতুটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে দুই ইউনিয়নের অন্তত লক্ষাধিক মানুষ এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ভাঙা অংশে স্থানীয়রা সুপারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে কোনো রকমে পারাপারের উপযোগী করে নিয়েছেন। এভাবেই জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী, রোগী, শিশু ও বয়স্করা সেতু পারাপার হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি ২০০৩ সালে নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটি গত ২৩ জুন বালুভর্তি একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় ভেঙে পড়ে। এ সময় ট্রাকটি খালে পড়ে যাওয়ায় ট্রাকচালক মো: নাইম (২৫) নিহত এবং হেলপার মো: আল আমিন (১২) গুরুতর আহত হন।

সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনসাধারণের চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করেনি। শুধু ‘ঝুঁঁকিপূর্ণ ও ভাঙা ব্রিজ, জনসাধারণের চলাচল নিষেধ’ লেখা একটি ব্যানার টানিয়ে দায়িত্ব শেষ করা হয়েছে। এতে রমাগঞ্জ ও ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মো: ইয়াছিন, মো: ফয়েজ উল্যাহ, মো: লোকমান, আবু মিয়া, মো: বাবুল, মো: শামীম মাস্টার, মো: জাবের, মো: জসীম, মো: মোসলেহ উদ্দিনসহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের এক যুগ পর থেকেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের দাবি জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। পরিশেষে সেতুটি পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ায় এবং একটি জীবন বিসর্জন ও একজন আহত হওয়ার পর দুই মাস অতিবাহিত হয়ে যায়। কিন্তু নতুন সেতু নির্মাণের কোনো উদ্যোগ আজ পর্যন্ত নেয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, বেতুয়ার খালের ওপর নির্মিত এ সেতুটি সাবেক মন্ত্রী ও স্পিকার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমের গ্রামের বাড়িসংলগ্ন। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে ২০০৩ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো: তানজিলুর রহমান বলেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট করতে কয়েকটি কোম্পানির সাথে আলোচনা চলছে। সয়েল টেস্টের পর ডিজাইন তৈরি করে জমা দিলে নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে সয়েল টেস্টের কাজ শুরু করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।