কূটনৈতিক প্রতিবেদক
ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি। তার অ্যাগ্রিমো অনুমোদনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি সরকারের অনুমোদন পেলে সাবেক মন্ত্রী, বারাকপুরের সাবেক এমপি, বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা প্রণয় ভার্মাকে ইতোমধ্যে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে দিল্লি।
হিন্দুস্তান টাইমস লিখেছে, দীর্ঘ দিন পর কোনো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে হাইকমিশনারের দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে ভারত। তিনি পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন। এর আগে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে বিহারের সদ্য সাবেক রাজ্যপাল আরিফ মোহাম্মদ খানের নাম আলোচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দীনেশ ত্রিবেদীকেই ওই পদের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।
পত্রিকাটি আরো লিখেছে, ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার ৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে মনোনীত করলেও বিষয়টি এখন তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আর একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে ভারতের দূত হিসেবে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিকদের জন্য একধরনের জবাবদিহিতার বার্তাও বটে। দীনেশ ঝরঝরে বাংলা বলেন এবং একজন দক্ষ সেতারবাদক। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সাথে যুক্ত। দুই বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কেও তিনি ভালো ধারণা রাখেন।
আনন্দবাজার লিখেছে, শেষ মুহূর্তে কোনো পরিবর্তন না ঘটলে, পশ্চিমবঙ্গের ভোট (বিধানসভার নির্বাচন) শেষ হলেই দীনেশকে রাষ্ট্রদূত করে ঢাকায় পাঠানোর সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ শুরু হয় দুই তরফেই। এ কাজে দীনেশ ত্রিবেদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন বলে মনে করছে ভারত সরকার।
আনন্দবাজার আরো লিখেছে, গুজরাটি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর ছোট ছেলে দীনেশ হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি পান। তারপর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেন। আশির দশকে কংগ্রেসে যোগ দেন দীনেশ। কিন্তু ১৯৯০ সালে জনতা দলে চলে যান। ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে সেই দলে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনিই দলটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক। ২০০২-০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের এমপি ছিলেন দীনেশ। ২০০৯ সালে বারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন। ওই আসনে জিতে কেন্দ্রের মনমোহন সিং সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে সেই দায়িত্ব সামলান দীনেশ। ২০১৯ সালের নির্বাচনে বারাকপুর থেকে আবারো তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন দীনেশ; কিন্তু সেবার বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান। তারপর তৃণমূল তাকে আবার রাজ্যসভায় পাঠায়। এর কিছুদিন পর থেকে তৃণমূলের সাথে দূরত্ব তৈরি হয় দীনেশের। এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে যোগ দেন।



