মুক্তিযোদ্ধাকে ফুটবলে ফেরানোর উদ্যোগ

রফিকুল হায়দার ফরহাদ
Printed Edition

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে বাংলাদেশের ফুটবলে বড় শক্তি হিসেবে আগমন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের। এরপর তারা জাতীয় লিগ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ জিতেছে। তাদের ভাণ্ডারে ফেডারেশন কাপ এবং স্বাধীনতা কাপও। দেশের প্রতিনিধি হিসেবে খেলেছে এএফসি কাপে। এই আসরে বাংলাদেশের ক্লাবগুলোর মধ্যে প্রথম জয় তাদেরই। ২০০৪ সালে তুর্কমেনিস্তানের নেবিথচি ক্লাবকে তাদের মাঠে ১-০ গোলে হারিয়েছিল শফিকুল ইসলাম মানিকের দল। গোলটি করেছিলেন এনামুল হক। পেশাদার লিগ শুরু হওয়ার পর থেকেই ক্লাবটি সরব উপস্থিতি। অথচ ২০২২-২৩ সালের পর আর ফুটবলে নেই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র। সেবার ক্লাবটি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে নেমে যায়। নিয়মানুযায়ী দলটি আর খেলেনি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে (বিসিএল)। বিসিএলে না খেলার মাধ্যমেই ফুটবল থেকে হারিয়ে গেছে ক্লাবটি। তবে এখন দেশের এক সময়ের নামকরা এই ক্লাবকে ফের ফুটবলে আনার চেষ্টা চলছে। বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ফুটবল ক্যারিয়ারের লম্বা সময় কেটেছে এই মুক্তিযোদ্ধায়। তিনি আবার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন ক্লাবটিকে ফুটবলে ফেরানোর। গতকাল কমলাপুর স্টেডিয়ামে তিনি জানান, আমি চাই সব ক্লাবই খেলুক। মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রীর সাথে এ নিয়ে আমি কথা বলল। আবার মাঠে আনতে চাই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রকে।

নেমে যাওয়ার আগের কয়েক বছরই খুব বাজে অবস্থায় যাচ্ছিল ক্লাবটির। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল ক্লাবটি পরিচালনান সাথে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রণালয় সরে যায় ক্লাবটির পাশ থেকে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদও আর এগিয়ে আসেনি। সর্বশেষ এই ক্লাবটির ম্যানেজার ছিলেন আরিফুল ইসলাম। তিনি এখন মহানগরী ফুটবল লিগ কমিটির সদস্য। তার মতে, ‘ক্লাবটি নেমে যাওয়ার পর আমি বারবার চেষ্টা করেছিলাম ফের দল গড়তে। কিন্তু কারো সহায়তা পায়নি। কেউ-ই এগিয়ে আসছে না।’ যোগ করেন, ‘আগের সরকারের সময় অসহযোগিতার মুখে পড়েছিলাম আমরা।’ অথচ যেবার ক্লাবটির অবনমন হয়, সে বছরই তাদের ক্লাব থেকে জাতীয় দলে চান্স পেয়েছিল ফুটবলার। বর্তমান জাতীয় দলের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণেরও উত্থান এই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র থেকে।

আর্থিক অনটনে মুক্তিযোদ্ধা নেমে গিয়ে আর ফুটবলে ফিরতে পারেনি। অন্য দিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর আর ফুটবলে নেই দেশের আরো দুই নাম করা এবং চ্যাম্পিয়ন ক্লাব শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ও লে. শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। দুই মৌসুম ধরে ক্লাব দু’টি দল না গড়ায় ফুটবলারদের বাজার ভয়াবহ মন্দা। এই ক্লাবগুলোকেও ফুটবলে ফেরত আনতে চান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। জানান, আমি চাই সব ক্লাবই খেলুক। ৮ মে রাতে আমি ধানমন্ডি ক্লাবে যাবো। কিভাবে দলটিকে খেলায় ফেরানো যায় সেই চেষ্টা থাকবে।’ উল্লেখ্য, ক্রিকেটে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব খেলছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স নামে। তবে ফুটবলে খেলছে না ক্লাবটি। দলটির সাবেক ফুটবল ম্যানেজার আনোয়ারুল করিম হেলাল জানান, চেষ্টা করেছিলাম ক্লাবটিকে আবার ফুটবলে ফেরাতে। তবে পাশে পাচ্ছি না কাউকে। যোগ করেন, আমি ভাই কোনো রাজনীতির সাথে নেই। নিজে খেলেছি। এরপর সংগঠক হয়েছি। কিন্তু আমাকে লম্বা সময় ধরেই বিএনপি করি বলে ট্যাগ দেয়া হয়েছিল।