অকাল বন্যায় ডুবছে হাওরের ধান, দিশেহারা কৃষক

Printed Edition

আলি জামশেদ বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ)

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। ফসল হারানোর আতঙ্কে কৃষকেরা আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। একদিকে অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে শ্রমিক সঙ্কট ও জ্বালানি তেলের চড়া মূল্যে নাভিশ্বাস উঠেছে কৃষকদের। ফলে বাম্পার ফলন পেয়েও ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না হাওরের কৃষক।

সরেজমিন নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, নিচু এলাকার জমিগুলোতে পানি ঢুকছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী ভরাট এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই অকাল বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। নিকলীর বড় হাওরের কৃষক কামরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পানির কারণে ধান কাটতে বিঘœ ঘটছে। এর ওপর হার্ভেস্টার মেশিনের জন্য ডিজেল মিলছে না। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৩০০ টাকা বেশি দিয়েও হন্যে হয়ে ঘুরতে হচ্ছে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমে শুরুতে শ্রমিকের মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে থাকলেও এখন তীব্র শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে উৎপাদিত ধান বাড়িতে নিতেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ। নিকলী উপজেলা সদরের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বাজারে পরিপক্ক ধান প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন ও কাটার খরচ মেটানোর পর এ দামে কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এদিকে, সরকারিভাবে এলএসডি গোডাউনে প্রতি মণ এক হাজার ৪৪০ টাকা দরে ধান কেনার ঘোষণা থাকলেও এর সুফল এখনো পাননি কৃষকেরা। জেলা উচ্চমান সহকারী বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ধান কেনার সিদ্ধান্ত হলেও জেলা পর্যায়ে কী পরিমাণ কেনা হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। উপযুক্ত সময়ে সরকারি কেনাকাটা শুরু না হওয়ায় মাঠপর্যায়ের কৃষকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর কিশোরগঞ্জ জেলায় এক লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৭ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন। জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো বড় অভিযোগ আমরা পাইনি। তবে কৃষকেরা যাতে ধানের নায্যমূল্য পায়, সেজন্য বিভাগীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া আর তেলের সঙ্কট দ্রুত সমাধান না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিবে।