ক্রীড়া প্রতিবেদক
স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ার কাবরেরার বিদায়ে নিশ্চিত সবচেয়ে খুশি হয়েছেন আনিসুর রহমান জিকো। ফর্মে থাকা সত্ত্বেও বসুন্ধরা কিংসের এই গোলরক্ষককে জাতীয় দলে ডাকতেন না কাবরেরা। যা ছিল রীতিমতো রহস্যজনক। ৩০ এপ্রিল কাবরেরার সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার পর তার সাথে চুক্তি নবায়ন করেনি বাফুফে। মার্কিন কোচ টমাস ডুলিকে দায়িত্ব দিয়েছে। নতুন কোচ দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ফের বাংলাদেশ দলে ডাক পেলেন কক্সবাজারের সন্তান জিকো। অবশ্য এই খেলোয়াড়কে ডাকার মূল কাজটা করেছেন সহকারী কোচ হাসান আল মামুন। ডুলি তো এলেনই মাত্র তিন দিন আগে। ৫ জুন সানমেরিনোর বিপক্ষে ফিফা প্রীতিম্যাচের জন্য ৩০ জনের তালিকায় নেই বাংলাদেশ দলের অন্যতম ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন। সন্তান-সম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য নিজ থেকেই এ ম্যাচ থেকে সরে গেছেন রাকিব। গতকাল বিকেলেই কিংস এরিনায় নতুন কোচের অভিষেক হলো লাল-সবুজদের প্র্যাকটিসে।
অবশ্য কাল সব ফুটবলারকে নিয়ে অনুশীলন শুরু করতে পারেননি কোচ ডুলি। বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা আজ যোগ দেবেন। আর হামজা চৌধুরী ও শমিত শোম, জায়ান আহমেদরা ইতালি হয়ে এরপর সানমেরিনো যাবেন। ভুটান লিগে খেলা তারিক কাজী জাতীয় দলের সাথে যোগ দেবেন পরে। তাকে ২৯ মে বাংলাদেশে আসতে বলা হয়েছে। যদি তিনি তখন ভুটান থেকে আসতে না পারেন, তাহলে কিভাবে সানমেরিনো নেয়া যায় সেটা নিয়ে কাজ করছেন জাতীয় দল ম্যানেজমেন্ট। বাংলাদেশ দল ৩১ মে সানমেরিনোর উদ্দেশে রওনা হবে। বাংলাদেশ দলের ফ্লাইটের সাথে মিলে রেখেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে রওয়ানা হবেন জামাল-শমিতরা।
বসুন্ধরা কিংসের সাথে এএফসি কাপ খেলে মালদ্বীপ থেকে ফেরার সময় হজরত শাহজালাল (রহ:) বিমানবন্দরে মদ নিয়ে ধরা পড়েন জিকোসহ আরো কয়েকজন ফুটবলার। এরপর থেকে জিকো জাতীয় দলের বাইরে। যদিও এরপর সাসপেনশন কাটিয়ে ক্লাব দলে ফিরেছেন। আর এবারের সিজনেতো অধিকাংশ ম্যাচেই পোস্টের নিচে ছিলেন বাজপাখি খ্যাত কিপারটি। জিকো ছাড়াও জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা অপর দুই গোলরক্ষক হলেন- ঢাকা আবাহনীর মিতুল মারমা ও মোহামেডানের সুজন হোসেন। কার্ড সমস্যায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে খেলা হয়নি রাকিবের সাথে তপু বর্মণেরও। তপু অবশ্য আছেন দলে। রয়েছেন অপর ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপুও।
তবে রাকিবের অনুপস্থিতি ভোগাবে দলকে। এই অভাব পূরণের দায়িত্বটা নিতে হবে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, মিরাজুল ইসলাম মিরাজ ও মিনহাজুল করিম স্বাধীনকে। এ ছাড়া ফাহামিদুল ইসলাম, শাহরিয়ার ইমন, রফিকুল ইসলামদের জ্বলে উঠতে হবে- প্রয়োজন মতো।
কোচ টমাস ডুলি নিয়ে এসেছেন সহকারী কোচও। তার নাম মার্ক ব্রুনো। ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তিনি। এ ছাড়া গোলরক্ষক কোচ হিসেবে কাজ করছেন এ কে এম নুরুজ্জামান নয়ন।
সানমেনিরোগামী দলের পাশাপাশি মালদ্বীপগামী দলেরও অনুশীলন চলছে কোচ মারুফুল হকের অধীনে। তারা মালদ্বীপের ডায়মন্ড জুবিলী টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। মালদ্বীপ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বাফুফের কাছে এই আসরের জন্য জাতীয় দল চেয়েছিল। তবে একই সময় সানমেরিনোর বিপক্ষে ম্যাচ থাকায় বাফুফে মালেতে পাঠাবে অলিম্পিক দল। অর্থাৎ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলারদের সাথে কয়েক সিনিয়র খেলোয়াড়ও। এতে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার আছেন। এবারের লিগের নতুন আবিষ্কার স্ট্রাইকার সৌরভ দেওয়ান আছেন মালদ্বীপগামী ক্যাম্পে।
৩০ জনের প্রাথমিক স্কোয়াড
মিতুল মারমা, আনিসুর রহমান জিকো, সুজন হোসেন, তারিক কাজী, তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, জায়ান আহমেদ, তাজ উদ্দিন, রহমত মিয়া, আবদুল্লাহ ওমর, শাকিল হোসেন, ঈসা ফয়সাল, এস এম মনজুরুর রহমান, জামাল ভূঁইয়া, মো: সোহেল রানা, সোহেল রানা, মোহাম্মদ হৃদয়, হামজা দেওয়ান চৌধুরী, শমিত শোম, শেখ মোরসালিন, সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানী, ফাহামিদুল ইসলাম, শাহরিয়ার ইমন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মিরাজুল ইসলাম, মিনহাজুল করিম স্বাধীন ও রফিকুল ইসলাম।
অলিম্পিক দলের ফুটবলাররা : মেহেদী হাসান শ্রাবণ, সাকিব আল হাসান, ইশহাক আকন্দ, মোহাম্মদ আসিফ, শরীফ উদ্দিন নীরব, আলফাজ মিয়া, মিঠু চৌধুরী, রাসেল হোসেন, রিমন হোসেন, মোহাম্মদ রাতুল, ইউসুফ আলী, ইসমাইল হোসেন, মানিক হোসেন মোল্লা, সাইফুল হোসেন, নাজমুল হুদা ফয়সাল, ইফতিয়ার হোসেন, চন্দন রায়, মজিবুর রহমান জনি, জুয়েল মিয়া, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, রাব্বী হোসেন রাহুল, সাজিদ হাসান জুম্মন নিঝুম, মোরশেদ আলী, সৌরভ দেওয়ান, আসাদুল মোল্লা, ইয়াসিন আরাফাত সিফাত, পিয়াস আহমেদ নোভা, মইনুল ইসলাম মইন, আল আমিন, মোহাম্মদ মানিক, প্রণয় এনোসেন্ট মারান্দি।



