আহসানুল হক জুয়েল নিকলী (কিশোরগঞ্জ) থেকে
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীর সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে তিনটির এখনো নিজস্ব প্রশাসনিক কমপ্লেক্স ভবন নেই। নিকলী সদর, সিংপুর ও ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ও অনুপযুক্ত ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিতে দুর্ভোগে পড়ছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম তিনটি ছোট টিনশেড কক্ষে চলছে। এর একটি সেবাকেন্দ্র, একটি গুদাম ও অন্যটি গ্রাম আদালত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চেয়ারম্যান, সদস্য ও কর্মকর্তাদের বসার আলাদা কক্ষ বা সভাকক্ষ নেই।
ছাতিরচর ইউনিয়নে একটি পুরনো টিনশেড ঘর থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। চেয়ারম্যান পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক সময় কার্যালয়ের স্থানও বদলে যায়। একই অবস্থা সিংপুর ইউনিয়নেও। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া করা টিনশেড ঘরে পরিষদের কার্যক্রম চলছে।
এ সব অস্থায়ী টিনশেড পুরনো ঘরে নাগরিক সনদ, জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ ও পারিবারিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, সরকারি সহায়তা এবং সালিশসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন বাসিন্দারা। জায়গার সঙ্কটে অনেক সময় সভা-সালিশ নিকটস্থ বিদ্যালয়, মাদরাসার মাঠ বা ব্যক্তিগত বাড়ির আঙিনায় বসাতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিকলী সদর, সিংপুর ও ছাতিরচর ইউনিয়নে কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য জমি কেনা হয়েছে। নিকলী সদরে প্রায় এক যুগ আগে জমি অধিগ্রহণ হলেও এখনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। সিংপুরে ভবনের স্থান নির্ধারণ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, বাজেট বরাদ্দ পেলে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। সিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: আলাউদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া করা টিনশেড ঘরে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়ার খান বলেন, নিজস্ব কমপ্লেক্স না থাকায় জনগণকে সেবা দিতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
নিকলী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনটি ইউনিয়নের কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য জমি বুঝে নেয়া ও মাটির পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বাজেট বরাদ্দ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মিললেই দরপত্র আহ্বান করে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।



