ক্রীড়া প্রতিবেদক
তৃতীয় মৌসুমে এসেই হোঁচট খেল চ্যালেঞ্জ কাপ। লিগ চ্যাম্পিয়ন এবং ফেডারেশন কাপ জয়ী দুই দল অংশ নিতো এই আসরে। এবার এই মৌসুম শুরুর চ্যালেঞ্জ কাপে অংশ নেয়ার কথা ছিল বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনীর। কিন্তু এই দুই ক্লাব এখনো তুলতে পারেনি তাদের ফিফা নিষেধাজ্ঞা। বাফুফে অবশ্য ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের জন্য আগামীকাল পর্যন্ত সময় দিয়েছে। আর দলবদল তথা ফুটবলারদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্ধারিত সময় ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ও দিকে ২১ আগস্ট লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও লিগ রানার্সআপ ঢাকা আবাহনীকে নিয়ে হওয়ার কথা ছিল চ্যালেঞ্জ কাপ। তবে যেহেতু এখনো এই দুই দল বিদেশী ফুটবলারদের বকেয়া টাকার বিষয়ে ফিফার নিষেধাজ্ঞা তুলতে পারেনি তাই ২১ আগস্ট তাদের এই এক দিনের আসরে খেলা অনিশ্চিত। আবার তাদের বিকল্প অন্য দুই ক্লাব তথা লিগের তৃতীয় ও চতুর্থ দল নিয়ে চ্যালেঞ্জ কাপ করা সেটিও দোদুল্যমান। কারণ ক্লাবগুলো আরো পরে খেলা শুরুর দাবি জানিয়েছে। তাই সব মিলিয়েই ২১ আগস্ট হচ্ছে না চ্যালেঞ্জ কাপ। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়াল জানান এই তথ্য।
গতকাল কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় বিভাগ লিগের সমপানী ছিল। এর আগেই কমলাপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ক্লাবগুলোর সাথে সভা করেন বাফুফে সভাপতি। সেখানে ক্লাবগুলো খেলা আরো পরে শুরু করার দাবি জানায়। সূত্র মতে, তারা চাচ্ছে আবাহনী এবং বসুন্ধরা কিংস যেন ফিফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে লিগে অংশ নিতে পারে। কারণ এই দুই ক্লাব না খেললে তারকা খেলোয়াড়দের খেলা অনিশ্চিত হয়ে যাবে। আবার কয়েক ক্লাব চাচ্ছে বড় এই দুই ক্লাব না খেললে তাদের ফুটবলারদেরন সস্তায় নিজেদের দলে টানবে।
তাবিথ আওয়াল জানান, খেলা পরে শুরু করার কোনো প্রস্তাব আসেনি। আমরা ক্লাব গুলোর সাথে প্রি সিজন আলোচনায় বসেছিলাম। নানা উন্মুক্ত আলোচনা হয়েছে। তবে ফুটবলার রেজিস্ট্রেশনের যে শেষ সময় ৩ সেপ্টেম্বর তা পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষে চ্যালেঞ্জ কাপ করা সম্ভব হবে না। এই টুর্নামেন্টটি অন্য সময়ে অন্য নামে হবে। এরপরই ফেডারেশন সভাপতি উল্লেখ করেন, আমরা এই মাসের শেষে ফেডারেশন কাপ এবং লিগ শুরু করতে চাই। তিনি আরো যোগ করেন, তিন ক্লাবের সাবেক ফুটবলারের সাথে কিছু বকেয়া আছে। এই ইস্যুতে তিন ক্লাব ফিফা কর্তৃক নিষিদ্ধ আছে।
তাবিথের মতে, ‘আমরা ক্লাবগুলোকে বলেছি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে। এবার আমরা ছয়টি স্টেডিয়ামকে ভেনু হিসেবে ব্যবহারের জন্য হাতে রেখেছি। পুুরনো গাজীপুর স্টেডিয়াম, মানিকগঞ্জ স্টেডিয়াম, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ স্টেডিয়াম ,কুমিল্লা স্টেডিয়াম আছে। গোপালগঞ্জ স্টেডিয়ামও আছে বিবেচনায়। সেই সাথে নতুন হিসেবে চাঁদপুর স্টেডিয়ামও আছে। এরপর আমরা চূড়ান্ত করব কোন কোন মাঠে খেলা হবে। আমরা এই সভায় ক্যালেন্ডার এবং ভেনু নিয়ে আলোচনা করেছি। এই দুই বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। তবে ক্লাবগুলোর সাথে আলোচনার পর খেলা বিষয়ে সিদ্ধান্ত বদল করতে পারি।’
জাতীয় স্টেডিয়ামকে কোনো ক্লাবের জন্য বরাদ্দ দিচ্ছে না। তাবিথ আওয়াল জানান, প্রত্যেকটি ক্লাবই টাকা খরচ করে দল গড়ে। তাদের নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠী আছে। তাই এক দুই দলের জন্য জাতীয় স্টেডিয়াম বেশি গুরুত্ব পাবে তা নয়। তবে লিগের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এখানে হতে পারে। আসিয়ান কাপ নিয়ে বাফুফে সভাপতি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার মতে ফিফা থেকে ক্লিয়ারেন্স আসলেই এরপর কথা বললো। তবে আমাদের বেশি কিছু পরিকল্পনা আছে। স্র্ফে ফিফার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি আমরা।



