মেলান্দহে মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণের অভিযোগ

Printed Edition
মেয়াদ উত্তীর্ণ ত্রাণসামগ্রী  : নয়া দিগন্ত
মেয়াদ উত্তীর্ণ ত্রাণসামগ্রী : নয়া দিগন্ত

মেলান্দহ (জামালপুর) সংবাদদাতা

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ও মেয়াদ শেষের পথে থাকা সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীরা হাতে পাওয়ার আগেই কিছু পণ্যের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আবার কোনোটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে মাত্র দু-এক দিনের মধ্যে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের দেয়া ‘অর্থবছর ২০২৪-২০২৫’ লেখা এসব পুরনো পণ্য ২০২৬ সালে বিতরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ ও ৬ সেপ্টেম্বর দুই দফায় ১২৫ জন দুস্থ মানুষের মাঝে এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিটি ব্যাগে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি তেল, লবণ, চিনি, ডাল এবং গুঁড়া মসলার প্যাকেট ছিল।

উপকারভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন গুদামজাত থাকায় অনেক পণ্যের প্যাকেট ছেঁড়া এবং ভেতরের মসলা ও চিনি জমাট বেঁধে দলা পাকিয়ে গেছে। মেলান্দহ পৌরসভার হাসনা বেগম ও হাজরাবাড়ির হুরমুজের ব্যাগে থাকা লবণের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩১ আগস্ট। অর্থাৎ ত্রাণ হাতে পাওয়ার আগেই তা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। অন্যদিকে রতœা বেগম ও জোসনা বেগমের লবণের মেয়াদ ত্রাণ পাওয়ার মাত্র এক-দুই দিনের মাথায় শেষ হয়। তেলের মেয়াদও চলতি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শেষ হতে চলেছে।

রতœা বেগম অভিযোগ করে বলেন, লবণ জমাট বাঁধা, চিনি-ডালের প্যাকেট ছেঁড়া। মেয়াদোত্তীর্ণ এসব জিনিস খেলে তো রোগব্যাধি হবে। হাসনা বেগম জানান, না বুঝে বাড়িতে আনলেও পরে জানতে পারেন লবণের মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গেছে। স্বল্প সময়ে তেলের মতো পচনশীল পণ্য ব্যবহার করে শেষ করা অসম্ভব।

এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা বলেন, জুলাইয়ের শুরুতে চিঠি পেয়ে কিছুদিন পর বরাদ্দকৃত ত্রাণসামগ্রী গ্রহণ করা হয় এবং পরবর্তীতে তালিকা অনুযায়ী তা বিতরণ করা হয়েছে। জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: আবদুল্লাহেল কাফি জানান, জুন ও জুলাই মাসে মন্ত্রণালয় থেকে আসা ত্রাণ উপজেলায় পাঠানো হয়েছিল। তবে মেলান্দহে কিভাবে এমন মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিতরণ হলো, তা প্রশিক্ষণরত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফিরে এলে জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।