আল মায়েদিন
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর মার্কিন-ইহুদিবাদী জোটের বর্বরোচিত ও বেআইনি হামলার এক সপ্তাহ পার হয়েছে। যুদ্ধ ক্ষেত্রের কর্মক্ষমতা এবং উভয় পক্ষের কৌশলগত সীমাবদ্ধতাগুলো এখন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গণমাধ্যমের অতিরঞ্জিত প্রচারণার বাইরে গিয়ে যুদ্ধের প্রকৃত কৌশলগত সমীকরণ বিশ্লেষণ করলে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। বিগত কয়েক দিনের হামলা, বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে চালানো কাপুরুষোচিত হামলা থেকে আক্রমণকারী শিবিরের দু’টি প্রধান লক্ষ্য স্পষ্ট হয়েছে।
১. তাৎক্ষণিক রাষ্ট্রীয় বিপর্যয় সৃষ্টির ব্যর্থ চেষ্টা : আক্রমণকারীদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়ে ইরানে একটি ‘রাজনৈতিক শূন্যতা’ তৈরি করা। ওয়াশিংটন ও তেলআবিব আশা করেছিল, এ আকস্মিক ধাক্কায় তেহরানের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়বে এবং পশ্চিমা মদতপুষ্ট অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীগুলো সে সুযোগে ক্ষমতা দখল করবে।
তবে যুদ্ধের চার দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর এটি স্পষ্ট যে, সে লক্ষ্য অর্জনে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংহতি আক্রমণকারীদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী প্রমাণিত হয়েছে। আকস্মিক ধাক্কা সামলে নিয়ে তেহরান তার কমান্ড চেইন বা নেতৃত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
২. দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয় ও ‘শর্ত সাপেক্ষে’ সরকার পতনের ছক : সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিক পতন ঘটাতে না পেরে এখন দ্বিতীয় কৌশলের দিকে হাঁটছে মার্কিন-ইসরাইল জোট। এটি কোনো তাৎক্ষণিক বিজয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ইরানকে দুর্বল করে দেয়ার একটি সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা।
এ কৌশলের মূল দিকগুলো হলো - অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে ইরানের সামরিক শক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করা। এমন একটি যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দেয়া যা ইরানকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে রাখবে। ইরান যেন যুদ্ধ শেষে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা কৌশলগত সুবিধা আদায় করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো ইরানের তথাকথিত ‘বিরোধী দল’ বা ‘অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভকারীদের’ নিয়ে যে আশার বাণী শুনিয়েছিল, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এ গোষ্ঠীগুলোর ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ফাটল ধরানোর মতো সাংগঠনিক ক্ষমতা বা জনসমর্থন নেই। বিষয়টি এখন ওয়াশিংটন এবং তেলআবিবের নীতিনির্ধারকদের কাছেও পরিষ্কার।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বলা যায়, এ যুদ্ধ কেবল একটি সাময়িক সঙ্ঘাত নয়। বরং এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়ার একটি ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ’। আক্রমণকারী পক্ষ চাইছে ইরানকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে যেতে, যেখানে তারা ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরাইলি আধিপত্যের সামনে মাথানত করতে বাধ্য হয়।


