শাহনাজ রহমতুল্লাহকে নিয়ে নাশিদ কামালের অনুরোধ

Printed Edition
শাহনাজ রহমতুল্লাহকে নিয়ে নাশিদ কামালের অনুরোধ
শাহনাজ রহমতুল্লাহকে নিয়ে নাশিদ কামালের অনুরোধ

বিনোদন প্রতিবেদক

দেশবরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী মরহুমা শাহনাজ রহমতুল্লাহর গায়কী কিংবা গান ভালোবাসেন না এমন কোনো সঙ্গীতপ্রেমী শ্রোতা নেই। তার কণ্ঠের বহু দেশের গান, আধুনিক গান, সিনেমার গান জনপ্রিয় হয়েছে। বিটিভিতে প্রচারের জন্যই আজ থেকে বহু বছর আগে মনিরুজ্জামান মনিরের লেখা ও আলাউদ্দিন আলীর সুর করা ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ’। একই সময়ে বিটিভিতে আলাউদ্দিন আলীর সুরে সাতটি গান প্রচারিত হয়েছিল। কিন্তু একসময় এসে এই ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটির জন্য শাহনাজ রহমতুল্লাহ কোণঠাসা হয়ে পড়েন রাজনৈতিক কারণে। গানটি একটি দলের গান হিসেবে বিবেচনা করেই তাকে কোণঠাসা করে রাখা হয়। যে কারণে পরবর্তীতে অভিমানে শাহনাজ রহমতুল্লাহ গান গাওয়াই ছেড়ে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের আরেক প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী, উপস্থাপিকা নাশিদ কামাল বলেন, ‘এই একটি মাত্র গানের জন্য বলা যায় শ্রদ্ধেয় শাহনাজ আপাকে একঘরেই করে রাখা হয়েছিল। যখনই তার রাজধানীর বারিধারার বাসায় যেতাম, তিনি হাউমাউ করে কাঁদতেন। তিনি এক বুকভরা কষ্ট নিয়েই এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। কিন্তু তাতে কী আমাদের কোনো লাভ হলো। একজন শাহনাজ রহমতুল্লাহ এই পৃথিবীতে একবারই আসেন, বারবার নয়। আমিতো দেখি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদেরকে যখন প্রশ্ন করা হয়, কার গান ভালোলাগে-তখন শ্রদ্ধেয় শাহনাজ রহমতুল্লাহ আপার নামটা আসে। তাই সবাইকে বলব, শাহনাজ আপার এই প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ গানটি’সহ তার অন্য যত গান আছে তা যেন বেশি বেশি চর্চা করা হয়। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানান দিতে হবে যে, আমাদের দেশে একজন শাহনাজ রহমতুল্লাহ ছিলেন। আমরা হতভাগা এক জাতি, এমন একজন মহান শিল্পী, গুণী শিল্পীর যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারিনি। আর কোনো শিল্পীর ভাগ্যে যেন এমন না হয়।’ শাহনাজ রহমতুল্লাহ দেশাত্মবোধক গান গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার উল্লেখযোগ্য গানসমূহের মধ্যে রয়েছে এক নদী রক্ত পেরিয়ে, একবার যেতে রদ না আমার রছাট্ট সোনার গাঁয়, একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল্, প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, সোনা সোনা সোনা লোকে বলে সোনা, আমায় যদি প্রশ্ন করে, যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়।