আনোয়ারা-চকরিয়া সড়ক প্রশস্ত করন কিলোমিটারে ব্যয় ২০.৪২ কোটি টাকা

Printed Edition

হামিদুল ইসলাম সরকার

বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ নিয়ে সব আমলেই প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় পৃথিবীর অন্যান্য দেশের, এমনকি প্রতিবেশি দেশের তুলনায় বাংলাদেশে অনেক বেশি। আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) (আর-১৭০) আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫৮.২০ কিলোমিটার প্রশস্ত করতে ব্যয় হবে প্রতি কিলোমিটারে ২০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে এক হাজার ১৮৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। চার বছরে প্রকল্পটি সমাপ্ত করার জন্য প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনের কাছে পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দেয়া প্রকল্প প্রস্তাবনার দলিল থেকে জানা গেছে, কর্ণফুলী ট্যানেলকে বহুমুখী ব্যবহার উপযোগী করা এবং বিদ্যামান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কমানোর লক্ষ্যে আনোয়ারা থেকে বাঁশখালী হয়ে পেকুয়া-বদরখালী হয়ে চকরিয়া ঈদমনি পর্যন্ত এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি প্রশস্তকরণে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) (আর-১৭০) আঞ্চলিক মহাসড়কের চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ ও কক্সবাজার সড়ক বিভাগের সড়কাংশ প্রশস্ত করা দরকার। যাতে মানুষ সহজে যানজট মুক্ত ও নিরাপদে যাতায়াত/চলাচল করতে পারে। ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুটে উন্নীত হবার পাশাপাশি টানেল হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের যে সম্ভাবনা তা আরো বেগবান হবে। প্রকল্পটি চলতি বছর জুলাই থেকে আগামী ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে।

অন্য প্রকল্পের সাথে তুলনা

২০২৩ সালের সোনাপুর-নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সড়কাংশ চার লেনে এবং কবিরহাট-বাংলাবাজার থেকে সুবর্ণচর উপজেলা গেডকোয়ার্টার সড়ক উন্নয়ন প্রস্তাবনায় সাড়ে ৪৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রতি কিলোমিটারে গড়ে ব্যয় হচ্ছে ১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া চলমান রাজউক পূর্বাচল ৩০০ ফুট মহাসড়কের সাথে গুলশান মাদানী এভিনিউ-সিলেট মহাসড়কের সংযোগ স্থাপনের সড়কটিতে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হচ্ছে ১৩ কোটি টাকা। প্রকল্পের খরচ এখন ৬৯৬ কোটি ৫৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। আর প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে ৫৮.২০ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্ত করতে খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে এক হাজার ১৮৮ কোটি ৪৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এখানে ৩০.৪৬ হেক্টর জমির সংশ্লিষ্ট আছে। আর প্রকল্পটি ২০২৪ সালে সমীক্ষা করা হয়। প্রকল্পটি অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় যুক্ত করার জন্যও বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল বিভাগ বলছে, নতুন রেট সিডিউল ও ভূমি অধিগ্রহণের কারণে খরচ বাড়ে। আর প্রকল্পটি যথা সময়ে অনুুমোদন পাওয়া গেলে এবং জেলা প্রশাসকের দফতর থেকে যথাসময়ে জমি অধিগ্রহণের ছাড় পেলে আশা করা যায় নির্ধারিত সময়েই শেষ করা যাবে। এই ধরনের প্রকল্পগুলো জমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণেই সময় বেশি লাগে এবং খরচ বাড়ে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ বলছে, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভুমি অধিগ্রহণের দর দেখাতে হবে। সঠিকভাবে সমীক্ষা করা হয়েছে কি না- সেটাও পর্যালোচনা করা হবে।