নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের শুকরিয়া আদায় করে বলেন, দীর্ঘদিন আমরা এমন একটি সুবিচারপূর্ণ রায়ের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সেই রায় দিয়ে আজ আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আরো বেশি কৃতজ্ঞ করেছেন। হৃদয়ের গভীর থেকে শুকরিয়া আদায় করছি আলহামদুলিল্লাহ। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিগত শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনামলে ভয়ঙ্কর জুলুমের শিকার হয়েছিল। জুলুম করে আমাদের বুক থেকে এক এক করে ১১ জন শীর্ষ দায়িত্বশীল নেতাকে মিথ্যা, সাজানো ও পাতানো মামলায় এবং মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে কার্যত জুডিশিয়াল কিলিং করা হয়েছে।
গতকাল এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর আয়োজিত তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন। বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানী ঢাকার কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তিনি আরো বলেন, জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো পরিচালনা করতে গিয়ে সীমাহীন জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। কিভাবে মিথ্যার নেয়া আশ্রয় হয়েছিল, সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহা তার লেখা নিজের বইয়ে স্বীকার করেছেন। কিভাবে পরিকল্পনা মাফিক, ঠাণ্ডা মাথায় এই নেতৃবৃন্দকে খুন করতে হবে তার ছক তৎকালীন বিচার বিভাগ এবং সরকার মিলে তৈরি করেছিলেন। আপনারা দেখেছেন এক একটা রায় হয়েছে, বাস্তবায়ন হয়েছে। যাকে খুন করা হয়েছে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তিনি তো আল্লাহর দরবারে চলে গেলেন। কিন্তু পাশাপাশি একই সময় পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্মম অত্যাচার করা হয়েছে। আমাদের সম্মানিত ভাই আব্দুল কাদের মোল্লাকে যেদিন রাতে জোর করে ফাঁসি কার্যকর করা হলো সেই রাতে তার বাসায় হামলা করা হলো। তার পরিবারের সদস্যদেরকে নাজেহাল ও শারীরিক কষ্ট দিয়ে তাদেরকে জেলে ভরে দেয়া হলো। একেকটা পরিবার ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ মামলার বিষয়ে ব্রিটেনের উচ্চ আদালত তাদের রায়ে বলেছে এই মামলাগুলো বিচারের নামে প্রহসন; জাস্ট জেনোসাইড অব দ্য জাস্টিস। বিচারকে গণহত্যা করা হয়েছে। তারা কিলিং অব দ্য জাস্টিস বলে নাই। কারণ সিঙ্গেল কেস হলে বলত কিলিং কিন্তু এখানে ছিল একাধিক কেস। এ কারণেই তারা বলেছে ইট ওয়াজ এ জেনোসাইড টু জাস্টিস। ব্রিটিশ আদালত এটাকে জেনোসাইড বললেও বাংলাদেশের তৎকালীন কোর্ট তা বলে নাই। তবে বাংলাদেশের কোর্ট আজ সেটাই বলেছে তাদের রায়ের মাধ্যমে। আমরা আমাদের শহীদ নেতৃবৃন্দ সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, সাবেক নায়েবে আমির শায়খ আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ, সাবেক আমির শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ কামারুজ্জামান ও শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা, সাবেক নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য শহীদ মীর কাসেম আলী (রহ:), সাবেক নায়েবে আমির সাবেক এমপি মাওলানা আব্দুস সোবহান (রহ:), সাবেক কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল খালেক মণ্ডল (রহ:), যাদেরকে খুন করা হয়েছে অন্যায় রায়ের মাধ্যমে তাদেরকে আরেকবার গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। তাদেরকে দুনিয়া থেকে সরানো হয়েছে, কিন্তু আমাদের বুক থেকে সরাতে পারবে না।
তিনি বলেন, আমি সেই সব পরম শ্রদ্ধেয় নেতৃবৃন্দ এবং তাদের যেসব সহকর্মীদেরকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে মহান রবের দরবারের কাতরকণ্ঠে তাদের জন্য আমি শাহাদতের সর্বোচ্চ দরজা কামনা করছি। পাশাপাশি স্বৈরশাসনের আমলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, বিডিআর সদস্যরা এবং সাধারণ প্রতিবাদী জনগণ যাদেরকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে বিশেষ করে চব্বিশের বিপ্লবের সময় যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করি তিনি তাদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। এ সব শহীদ পরিবারের সব সদস্যের প্রতি আমাদের সীমাহীন শ্রদ্ধা, ভালোবাসা রইল। তাদের জন্যও মহান রবের দরবারে দোয়া করি তিনি যেন এর বদলা দুনিয়া এবং আখিরাতের উত্তম জাযাহ দান করেন এবং শহীদদের সাথে তাদেরকেও যেন পরম জান্নাতের ঠিকানা দান করেন।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও সাবেক এমপি ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মোয়ায্যম হোসাইন হেলাল, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব, সাইফুল আলম খান মিলন, অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো: সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিমউদ্দীন সরকার, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, শহীদ মাওলানা দেলাওয়ারহোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী, শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, শহীদ আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ছেলে আলী আহমাদ মাবরুর, এ টি এম আজহারুল ইসলামের ছেলে তাসনিম আজহার সুমন, শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ছেলে হাসান জামিল এবং এ টি এম আজহারুল ইসলামের মামলার আইনজীবীরা।
তিনি জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও সাজানো মামলা প্রসঙ্গে বলেন, স্কাইপ কেলেঙ্কারির ঘটনা গোটা বিশ্ববাসীর কাছে নিন্দিত হয়েছে, তিরস্কৃৃত হয়েছে। গোটা বিচারপ্রক্রিয়ার সময় দু’টি টর্চার সেল গঠন করা হয়েছিল। একটার নাম দেয়া হয়েছিল সেইফ হোম, আরেকটার নাম দেয়া হয়েছিল সেইফ হাউজ। সেইফ হোমে ভিকটিম নেতৃবৃন্দকে নিয়ে নাজেহাল করা হতো। সেখানে উচ্চ আদালতের ডিরেকশনে সেইফ হোমে রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন তাদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। আমরা তখন নীরবে সহ্য করেছি। আমরা প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছি। চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে বলেছি। সেইফ হোমে নির্যাতনের পাশাপাশি সেখান থেকে সেইফ হাউজে এনে রাখা হতো যাত্রাবাড়ীর একটা ঠিকানায়। এসব মিডিয়ায় উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠন এই বিচারপ্রক্রিয়াকে নিন্দা জানিয়েছে। তাদেরকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে কিন্তু তারা তা আমলে নেয়নি। কারণ তারা জানতো স্বচ্ছ বিচার হলে খুন করা যাবে না। কারোরই কথা তারা শুনেনি।
তিনি আরো বলেন, আমরা এই দেশকে ভালোবাসি। আমাদের প্রিয় নেতৃবৃন্দও এই দেশকে ভালোবাসতেন। ভালোবাসার জায়গা থেকে তারা চেষ্টা করেছেন দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু করার। তাদের সবটুকু যোগ্যতা উজাড় করে দিয়ে তারা বাংলাদেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি করতে চেয়েছিলেন। শুধু রাজপথে নয়, সরকারের একটি অংশ হওয়ার পরও তারা সরকারি ব্যবস্থাপনাগুলোকে ভালো করার চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, আপনারাই সাক্ষী, দুইজন মন্ত্রী তিনটা মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা তার এই বান্দাদেরকে বিশেষ সাহায্য করেছিলেন। তারা সততা এবং দক্ষতার সাথে তারা তাদের দায়িত্ব পুরোটা সময় ধরে পালন করেছিলেন। এক বিরল প্রমাণ বাংলাদেশের জনগণের জন্য তারা রেখে গেছেন। সততার নজিরবিহীন উদাহরণ তারা রেখে গেছেন। আমরা আশা করি তাদের এই অবদান জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আদালতে মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে কী হয়েছে তা আপনারা দেখেছেন। আদালত প্রাঙ্গণে যে পরিবারের মানুষকে খুনের অভিযোগে নেতৃবৃন্দের ট্রায়াল চলছে সেই পরিবারের কারো সাক্ষ্য নেয়া হয়নি। বরং এক ভাই সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন; ইসাবালির ভাই সুখরঞ্জনবালি তাকে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীর গাড়ি থেকে সাদা পোশাকে পুলিশ অপহরণ করেছে। তাকে অপহরণ করে নির্যাতন করে ভারতের মাটিতে ফেলে রেখেছিল। জেল খেটে দীর্ঘদিন পর তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।
জামায়াত আমির বলেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী শুধু জামায়াতে ইসলামীর সম্পদ ছিলেন না বা তিনি শুধু বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশে^র বিশ^াসী মানুষের সম্পদ। তার সাথে কী আচরণ করেছে আপনারা দেখেছেন। তার এই মামলার ব্যাপারে সঠিক কথাটা বলতে সুখরঞ্জনবালি এসেছিলেন। কিন্তু আইনজীবীর গাড়ির দরজা খুলে তাকে তুলে নেয়া হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের আদালতে এ রকম ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, অ্যাপিলেট ডিভিশনে হিয়ারিংয়ের সময় প্রধান বিচারপতি সরকার পক্ষের কৌঁসুলিকে বলছেন, যা কিছু বললেন, তাতে মতিউর রহমান নিজামীকে একদিনের জন্য বা এক মিনিটের জন্যও শাস্তি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আশা করেছিলাম, সত্য কথাটা খোলা কোর্টে বলার পরে অন্তত তার কথার মর্যাদা রাখবেন। কিন্তু না ওই যে আগের চক্রটা বিদেশ থেকে সাপ্লাই দেয়া রায়ের ভিত্তিতে তাকেও শাস্তি দেয়া হলো।
তিনি বলেন, আদালত আমাদের নেতৃবৃন্দের উপর জুলুম করেছে। বহু কায়দা কানুন করে তাদের মুখ থেকে জোর করে যা নয় তা স্বীকার করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি রায় বাস্তবায়নের আগেও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু তারা ছিলেন স্থিরচিত্ত, তারা ছিলেন ঈমানের বলে বলীয়ান, তারা ছিলেন সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। এজন্য মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে ফাঁসির কাষ্ঠে দাঁড়িয়েছেন কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন নাই। তারা আমাদের শিখিয়ে গেছেন যে মর্যাদাবান জাতি সত্যের উপর অবিচল থাকলে ফাঁসি কোনো বিষয় নয়। মৃত্যু একবারই হবে অপমানজনক মৃত্যু নয়, মৃত্যুটা হোক বীরের মতো। তাদের মৃত্যু ছিল বীরোচিত মৃত্যু। আল্লাহ তাদের নেক খেদমতগুলো কবুল করে বারাকাহ দিয়ে পরিপূর্ণ করে দিন। আমরা অনুপ্রাণিত হই তাদের শেষ সময়টুকু পর্যন্ত জাতিকে যা যা দিয়ে গেছেন তার থেকে।
তিনি বলেন, এই মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে ইন্টারন্যাশনাল কাস্টমারি যে ল আছে তা ফলো করা হয়নি আবার ডোমেস্টিক যে ল আছে তাও ফলো করা হয়নি। আমাদের দেশে যে এভিডেন্স ল আছে এটা মোটেই ফলো করা হয়নি। সেদিন সংবিধান কোনো বিষয় ছিল না, আইন কোনো বিষয় ছিল না। যাদের ইশারায় কোর্ট পরিচালনা করা হতো, তাদের ইচ্ছাই ছিল আইন; সেটা বৈধ হোক কিংবা অবৈধ হোক। এইভাবে তাণ্ডব চালানো হয়েছে আমাদের ওপর।
জামায়াত আমির আরো বলেন, ব্রিটেনের আদালত বলেছে জেনোসাইড টু দ্য জাস্টিস। আজকে আমাদের আদালত বলেছেন আপিল বিভাগ মিসক্যারেজ অব দ্য জাস্টিস। ন্যায়ভ্রষ্ট রায়, অন্যায় রায়।
তিনি বলেন, শত কষ্ট আমাদের বুকে থাকা সত্ত্বেও আমরা দেশকে ভালোবাসি। আমরা প্রতিশোধ নেইনি আপনারা দেখেছেন কিন্তু আমরা ন্যায়বিচার চাই। এ রায়ের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে এই রায় ছিল ইচ্ছাকৃত; গণহত্যার মাধ্যমে নেতৃত্ব শূন্য করা। একটা দেশ ও দলের নেতৃত্ব শূন্য করার মানেই হচ্ছে জনগণকে অন্ধকারের মাঝে ঠেলে দেয়া। এ রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে সত্যকে চেপে রাখা যায় না। সত্য মেঘের আড়াল ভেদ করে আলোর ঝলক নিয়ে আসে, সে সত্যটাই আজ প্রমাণিত হলো।
তিনি বলেন, আমরা জাতির কাছে কথা দিচ্ছি মহান আল্লাহর একান্ত ইচ্ছায় প্রিয় দেশবাসীর সমর্থন সহযোগিতায় যদি এই দেশের সেবা করার সুযোগ আমাদের কাছে আসে, তাহলে আমরা ইনশাআল্লাহ প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান ঘটাব। বৈষম্যের রাজনীতির অবসান ঘটাব এবং সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করার জন্য প্রিয় জনগণকে সাথে নিয়ে আমাদের সবটুকু উজাড় করে দিব। পাশাপাশি আমরা চাইব আমাদের সমাজ দুর্নীতিমুক্ত হোক, দুঃশাসনমুক্ত হোক, অপরাধমুক্ত হোক, বৈষম্যমুক্ত হোক, কল্যাণধর্মী সমাজ হোক, মানবিক সমাজ হোক সেই সমাজগঠনে আমরা আপনাদের সাহচর্য, সমর্থন, সহযোগিতা ও দোয়া আমরা কামনা করি।
তিনি আরো বলেন, হে আল্লাহ তুমি বাংলাদেশের জনগণের জন্য আমাদের কবুল করুন। পদ-পদবি ও নেতৃত্বের বাহাদুরির জন্য নয়, প্রিয় মানুষদের জন্য ভালো কিছু করতে চাই। তুমি আমাদের সেই তাওফিক দান করুন। আমরা শত বিপদ-আপদের মধ্যেও দেশবাসীর পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এমনকি গণ-অভ্যুত্থানের পর আমাদের শহীদ, আহত ও পঙ্গু ভাইবোনদের পাশে থাকার। আমরা বিশ্বাস করি আমরা আমাদের সবটুকু দিয়ে আমাদের পুরো কর্তব্য আদায় করতে পারিনি আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতার কারণে। এখনো অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। আপনারা আমাদের ক্ষমা করবেন আমাদের কোনো আচরণে এবং কোনো কথা ও কাজের মাধ্যমে কষ্ট পেয়ে থাকলে যখন যেভাবে হোক। কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, দল হিসেবেও আমরা দাবি করি না আমরা ভুলের ঊর্ধ্বে। এ সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী বা সহকর্মীদের দ্বারা যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কষ্ট পেয়েছেন, সবার কাছে বিনা শর্তে ক্ষমা চাই। আপনারা আমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন।
জামায়াত আমির বলেন, জাতির অনেকগুলো বার্নিং ইস্যুজ এখনো অমীমাংসিত। রাজনৈতিক সব দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজন দেশকে ভালোবেসে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা যেন সবাই যথাযথ ভূমিকা পালন করি।
তিনি বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি মহান আল্লাহর একান্ত ইচ্ছায় প্রিয় দেশবাসীর সমর্থন ও সহযোগিতায় যদি দেশের সেবা করার দায়িত্ব আমাদের উপর আসে আমরা ইনশাআল্লাহ প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান ঘটাব। বৈষম্যের রাজনীতির অবসান ঘটাব। সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করার জন্য প্রিয় জনগণকে সাথে নিয়ে আমাদের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে চেষ্টা করব। আমরা চাই আমাদের সমাজ দুর্নীতিমুক্ত হোক, দুঃশাসনমুক্ত হোক, অপরাধমুক্ত হোক, বৈষম্যমুক্ত হোক, কল্যাণধর্মী সমাজ হোক, মানবিক সমাজ হোক। সেই সমাজ পরিগঠনে আমরা আপনাদের সাহায্য, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, সমর্থন, দোয়া কামনা করি। আল্লাহ তাআলা দেশবাসীকে হেফাজত করুন। প্রিয় দেশকে হেফাজত করুন। প্রিয় দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আল্লাহ তাআলা অক্ষুণœ রাখুন। সবাই মিলে মিশে একটা সোনালি সমাজ যেন বিনির্মাণ করতে পারি আল্লাহ তাআলা এ দেশের মানুষকে সেই সাহায্য দান করুন।



