সাফ ফুটসালেও শিরোপা সাবিনাদের

Printed Edition
নারী সাফ ফুটসালের ট্রফি হাতে সাফ সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের সাথে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা : বাফুফে
নারী সাফ ফুটসালের ট্রফি হাতে সাফ সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের সাথে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা : বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দেশে নেই নারী ফুটসালের চর্চা। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ নারী দল থাইল্যান্ডে খেলতে গিয়েছিল ফুটসাল টুর্নামেন্ট। এরপর আর খোঁজ নেই। অবশ্য মূল ফুটবলে এএফসি ও সাফের আসর খেলতে খেলতেই সময় পার করতে হয়েছিল লাল-সবুজ নারী খেলোয়াড়দের। তাবিথ আওয়ালের নেতৃত্বে বাফুফের বর্তমান কমিটি ফুটসালের উপর নজর দেয়। গত বছর মালয়েশিয়ায় এএফসির ফুটসালে অংশ নিতে দল পাঠায় বাফুফে। সেই ধারা ক্রমে এবার থাইল্যান্ডে সাফ ফুটসালে প্রতিনিধিত্ব করেছিল পুরুষ দল ও নারী দল। তারা সেখানে ব্যর্থ হলেও (পঞ্চম) ঠিকই সাফল্য পেয়েছে নারী ফুটসাল দল। প্রথম সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এর আগে একমাত্র অনূর্ধ্ব-১৭ নারী সাফ ছাড়া সাফের বাকি সব বয়সভিত্তিক আসরেই শিরোপা জিতেছিল। এবার জিতল প্রথম নারী সাফ ফুটসাল। গতকাল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে হারিয়ে এই ট্রফি অর্জন করে বাংলাদেশ দল। সাফ সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন ম্যাচ শেষে ট্রফি তুলে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের হাতে। ৬ খেলায় ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। আর ভারত ১২ পয়েন্টে রানার্সআপ হয়েছে। কাল ভুটান ৩-৫ গোলে নেপালের কাছে হেরে তৃতীয় স্থান পায়।

ভারতের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় দিয়েই এবারের সাফ ফুটসাল শুরু করেছিল বাংলাদেশ দল। পরের ম্যাচে ভুটানের সাথে ৩-৩ গোলে ড্রটা ছিল অপ্রত্যাশিত। এরপর একে একে নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের রাস্তা প্রশস্ত করে। অন্য দিকে বাংলাদেশ দলের ঘাঁড়ে গরম নিশ্বাস ফেলছিল ভুটান। তবে বাংলাদেশ যদি মালদ্বীপকে হারাতে পারে তাহলেই হবে শিরোপা উৎসব। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। এই আসরে কোনো জয়ের দেখা না পাওয়া মালদ্বীপ যে তেমন কোনো বাধা হবে না তা আগেই অনুমেয় ছিল। ব্যাংককের হুয়া মাক ইনডোর স্টেডিয়ামে এর ব্যতিক্রমও হয়নি।

তবে প্রথমে লিড নিয়ে বাংলাদেশ দলকে চমকে দেয় মালদ্বীপ। ৪ মিনিটেই তাদের সানিয়া ইব্রাহিমের শট বাংলাদেশ কিপার স্বপ্না আক্তার ঝিলির গ্লাভসের ছোঁয়া নিয়ে জালে যায়। এরপর অধিনায়ক সাবিনার পেনাল্টি মিস অন্য রকম ইঙ্গিত দিলেও ৪০ মিনিট শেষে বিশাল জয়ই লাল-সবুজ কন্যাদের। যদিও এই পেনাল্টি মিসের আগেই দূর থেকে নেয়া শটে সমতা আনেন সাবিনা। পেনাল্টি মিসের পর ফ্রি-কিকে দলকে এগিয়ে নেন সাবিনা। বাকি সময়টা শুধুই খোদা রাহমির দলের গোল উৎসব। ৬-১ গোলে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরো ৮ গোল। চার গোল করেন সাবিনা। হ্যাটট্রিক পেয়েছেন লিপি আক্তারও। এ ছাড়া কৃষ্ণা রানী দু’টি এবং, নওশন জাহান, মেহেরুন , নীলা, সুমাইয়া এবং মাছুরা একটি করে গোল করেন। শেষ দিকে মালদ্বীপ দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধানই কমায়।

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়ালের মুখে সাবিনার প্রশংসা। নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য আরো বিস্তৃত করে সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় নারী দলকে বিশেষভাবে অভিনন্দন। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে খেলার দু’টি ভিন্ন ফরম্যাটে (ফুটবল ও ফুটসাল) দলকে চ্যাম্পিয়ন করায় সাবিনাকে নিয়ে আমরা গর্বিত।’