ক্রীড়া ডেস্ক
ডিআর কঙ্গোর গোলবারে দুর্ভেদ্য দেয়াল গড়েছিলেন লিওনেল এমপাসি। ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত কলম্বিয়ার আক্রমণের স্রোত সুরক্ষিত ছিল সেই দেয়ালে। এরপরই ড্যানিয়েল মুনোজের এক মুহূর্তের ঝলকে সেই দেয়াল ভেঙে নকআউট পর্বে পৌঁছে গেল কলম্বিয়া। গোলরক্ষকের বিরোচিত পারফরম্যান্সেও শেষ রক্ষা হলো না কঙ্গোর। বিশ্বকাপের ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে ডিআর কঙ্গোকে ১-০ গোলে গোলে হারিয়ে পর্তুগালের গ্রুপে শেষ ৩২ নিশ্চিত হয়ে গেল জেমস রদ্রিগেজের দলের। দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশটি। সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশ পর্তুগাল।
গুয়াদালাহারায় গোল করা ছাড়াও ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন ক্রিস্টাল প্যালেসের রাইট ব্যাক মুনোজ। রক্ষণের চেয়ে আক্রমণেই তিনি ছিলেন বেশি সক্রিয়। ম্যাচসেরা এই ফুটবলারের বেশি আনাগোনা ছিল কঙ্গোর বক্সের আশপাশেই। আগের ম্যাচেও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে কলম্বিয়ার জয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন মুনোজ। পুরো ম্যাচেও অবশ্য ৬৬ শতাংশ সময় বল পজিশনে রেখে ২০ শটের ৯টি লক্ষ্যে রেখে একবার জালের দেখা পায় কলম্বিয়া। তবে বাকি ৮টি শট সেভ করলেও একবারই ব্যর্থ হন এমপাসি।
ম্যাচের প্রথম আক্রমণটি ছিল কঙ্গোর। বক্সের বাইরে থেকে এডো কায়েম্বে জোরাল শট নিলেও বল চলে যায় বারের ওপর দিয়ে। এর পর থেকেই আক্রমণের সুনামি বইয়ে দেয় কলম্বিয়া। ৪ মিনিটে বাঁ দিক থেকে বিপজ্জনকভাবে বল নিয়ে ঢুকে পড়ে তারা। রদ্রিগেজের কাছ থেকে বল পেয়ে শট নেন জন আরিয়াস। দারুণ রিফ্লেক্সে ঠেকিয়ে দেন এমপাসি। দুই মিনিট পর ফাঁকায় থেকে মুনোজের নেয়া হেড লাফিয়ে রক্ষা করেন এমপাসি। তবে বিপদমুক্ত হয়নি তখনো। মুনোজ আবার হেডের চেষ্টা করলেও এমপাসির হাতে লেগে বল চলে যায় জালে। তার এর আগেই অফসাইডের বাঁশি।
১২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে রদ্রিগেজের দুর্দান্ত বাঁকানো শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন এমপাসি। পরমুহূর্তে আরেকটি আক্রমণ করে কলম্বিয়া। কিন্তু দিয়াজের দিকে বাড়ানো রদ্রিগেজের বলটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাইরে চলে যায়। কলম্বিয়ার আক্রমণের ঝড়ে শ্বাস নেয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না কঙ্গোর গোলরক্ষক। ২০ মিনিটে ৩০ গজ দূর থেকে গুস্তাভো পুয়ের্তার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন এমপাসি।
ছোট্ট ওই বিরতির পর তাদের খেলায় কিছুটা উন্নতিও চোখে পড়ে। ৩১তম মিনিটে ইয়োয়ান উইসার একটি আলগা ব্যাক পাসের সুযোগ প্রায় কাজে লাগিয়েই ফেলেছিলেন ইয়োয়ানে উইসা; কিন্তু কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস ছিলেন সতর্ক। পরের মিনিটে দিয়াসের শট আটকে যায় কঙ্গোর রক্ষণ দেয়ালে। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্যভাবেই বিরতিতে যায় দুই দল।
৫১ মিনিটে আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ পায় কলম্বিয়া। কর্নার থেকে আসা প্রথম ডেলিভারিটি ক্লিয়ার করা হলেও বল আবার ফিরে আসে এবং দিয়াজের জোরাল শট অবিশ্বাস্যভাবে আটকে যায় এমপাসির পায়ে লেগে। ৬০ মিনিটে গোলমুখে দিয়াজের বিপজ্জনক ক্রস চমৎকারভাবে ফিস্ট করে দেন এমপাসি। কর্নারে উড়ে আসা বলও বিপদমুক্ত করেন কঙ্গোর এই গোলরক্ষক। যখন মনে হচ্ছিল, একটু ঝিমিয়ে পড়েছে কলম্বিয়া, তখনই সেই গোল।
বক্সের বাইরে থেকে প্রতিপক্ষের দু’জনের মাঝ দিয়ে বল বক্সে ঠেলেন বদলি নামা জুয়ান ফার্নান্দো কুইন্টেরো। সেখানে কঙ্গোর এক ডিফেন্ডারকে ব্লক করে রাখেন জন কর্দোভা। ফাঁকায় থাকা মুনোজের শট এমপাসিকে বিভ্রান্ত করে ঢুকে যায় জালে। শেষ পর্যন্ত ওই একটি গোলই আলাদা করে দুই দলকে।



