নিজস্ব প্রতিবেদক
কলকাতার বিভিন্ন মসজিদে জুমার আজান মাইকে দেয়া বন্ধ এবং বিপুলসংখ্যক মসজিদের মাইক খুলে নেয়ার খবরে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির (ভারপ্রাপ্ত) আল্লামা আব্দুল কাইয়ুয সুবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইযহার।
গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, মসজিদ থেকে মাইক অপসারণ এবং আজানের স্বাভাবিক প্রচারে বাধা দেয়ার অভিযোগ কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের আইন থাকলে তা সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়কে টার্গেট করে প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।
তারা বলেন, আজান মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নিদর্শন। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে আজানের অধিকার সঙ্কুুচিত করার কোনো অপচেষ্টা মেনে নেয়া যায় না। একই আইনের নামে এক ধর্মের উপাসনালয়ে কঠোরতা এবং অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে শিথিলতা- এ ধরনের দ্বৈতনীতি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নেতৃদ্বয় বলেন, কলকাতার মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারের। মসজিদের মাইক অপসারণের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ এবং বেআইনি বা বৈষম্যমূলক কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়ে থাকলে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
তারা আরো বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা কোনো রাষ্ট্র বা প্রশাসনের দয়া নয়; এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ভারতের মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সাথে বাংলাদেশের সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলকেও প্রতিবেশী দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে নীতিনিষ্ঠ, দৃঢ় ও কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।
নেতৃদ্বয় সতর্ক করে বলেন, ধর্মীয় অধিকার হরণ, বৈষম্যমূলক আইন প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক দমন-পীড়নের মাধ্যমে কোনো সমাজে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। ন্যায়বিচার ও সমঅধিকার নিশ্চিত করাই টেকসই সম্প্রীতির একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেন নেতৃদ্বয়।


