আগ্রাসনকারীরা ইরানে পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটাতে চায় : রাশিয়া

Printed Edition

মস্কো টাইমস ও আনাদোলু

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। বুধবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এক কড়া বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং ধ্বংসাত্মক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। মস্কো বলছে, গত মঙ্গলবার বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সচল ১ নম্বর ইউনিটের একেবারে গা-ঘেঁষে এই হামলা চালানো হয়, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি মহাপ্রলয়ঙ্করী পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে সাফ জানিয়েছে, আগ্রাসনকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলে একটি বিশাল পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটাতে চাইছে। তারা তাদের নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আড়াল করতেই এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে যে, বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত সাধারণ ইরানি নাগরিক এবং সেখানে অবস্থানরত রুশ বিশেষজ্ঞদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে। কেবল অলৌকিক কোনো ঘটনার কারণেই এখন পর্যন্ত বড় কোনো ট্র্যাজেডি ঘটেনি। বারবার বিদ্যুৎকেন্দ্রের খুব কাছাকাছি হামলা চালানোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্রেমলিন।

রাশিয়া মনে করিয়ে দিয়েছে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আএইএ) সেফগার্ড চুক্তির আওতাভুক্ত। তাই এই স্থাপনায় বা এর আশপাশে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এ বিষয়ে আইএইএ এবং জাতিসঙ্ঘকে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার এবং অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে মস্কো।

এ দিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো হামলা চালানো হবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা বা আশ্বাস এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। ফলে শঙ্কা কাটছে না বরং দিন দিন তা আরো ঘনীভূত হচ্ছে।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও পশ্চিম জেরুসালেমকে বুঝতে হবে বুশেহরের ওপর একটি আঘাত মানেই অপূরণীয় মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়। এখনই সময় কাণ্ডজ্ঞানহীন এই আগ্রাসন বন্ধ করার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান ইতোমধ্যে তার শীর্ষ নেতৃত্বকে হারিয়েছে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। তবে পরমাণু স্থাপনার আশপাশে এই নতুন দফার হামলা পুরো সঙ্ঘাতকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বুশেহরে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার তেজস্ক্রিয়তা কেবল ইরানে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।