দীর্ঘ আলোচনা, প্রতিবাদ ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে কেটে গেছে বিপিএল ঘিরে সৃষ্টি হওয়া সঙ্কট। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে গতকাল থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। ক্রিকেটারদের বয়কটের কারণে একদিনের জন্য থমকে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট আবার ফিরছে উত্তেজনা নিয়ে। প্রথম দিনের হতাশা কাটিয়ে দর্শকরা হয়েছে মাঠমুখো। ঢাকা পর্বের প্রথম দিনের অসোন্তষের ছিটে ফোঁটাও ছিল গতকাল। একটা বিষয় পরিষ্কার, দর্শকরা খেলা চায়, সাপোর্ট করতে চায়, গগন বিদারী চিৎকার দিয়ে নিজ দলকে ভালোবাসা জানাতে চায়।
বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসন্তোষ চরমে পৌঁছলে ১৫ জানুয়ারির নির্ধারিত দু’টি ম্যাচ বয়কট করেন ক্রিকেটাররা। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত উদ্যোগ নেয় বোর্ড। ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি এবং শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়দের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের পথ বের হয়। বিসিবির গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু জানান, স্থগিত থাকা ম্যাচগুলো পরবর্তী দিনগুলোতে আয়োজন করা হবে। ১৫ জানুয়ারির দুই ম্যাচ হবে ১৬ জানুয়ারি (গতকাল), ১৬ জানুয়ারির ম্যাচগুলো গড়াবে ১৭ জানুয়ারি (আজ) এবং ১৭ জানুয়ারির ম্যাচগুলো হবে ১৮ জানুয়ারি (আগামীকাল)।
সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখার আরো বলেন, ‘নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোহাম্মদ মিঠুনসহ শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারদের সাথে আলোচনার পরই বিপিএল ফের মাঠে নামার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। প্লে-অফ পর্বে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী ১৯ জানুয়ারি এলিমিনেটর ম্যাচ। এরপর দুইটি কোয়ালিফায়ার শেষে ২৩ জানুয়ারি ফাইনাল।
সবকিছু চাওয়ামতো হয়নি
বাংলাদেশ ক্রিকেটে গত ৪৮ ঘণ্টা ছিল চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তায় ভরা। বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের এক প্রকাশ্য মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্রিকেটারদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়।
সঙ্কট কাটিয়ে বিপিএল আবার মাঠে ফিরলেও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত মিঠুন স্বীকার করেছেন, সবকিছু তাদের চাওয়া অনুযায়ী হয়নি। সাক্ষাৎকারে মিঠুন বলেন, ‘সবকিছু আমাদের ইচ্ছেমতো হয়নি। তবে ক্রিকেটের স্বার্থে এবং সব ক্রিকেটারের কথা চিন্তা করে আমাদের কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হয়েছে। যদি অনড় থাকতাম, তাহলে খেলা হয়তো একেবারেই বন্ধ হয়ে যেত।’
তামিমের সাথে কোয়াবের সম্পর্ক
সব ঘটনার শুরু হয় তামিম ইকবালকে নিয়ে করা বিসিবি পরিচালকের বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে। কোয়াবের সাথে তামিমের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে মিঠুন বলেন, ‘সভাপতি হওয়ার পর তামিম ভাই শুধু শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, এর বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার তার নেই।’
কী হবে আজ দুপুরে
বিপিএল আজ মাঠে গড়ালেও তার রেশ রয়ে গেছে। সেই উত্তেজনার মধ্যেও বিসিবির পক্ষ থেকে নাজমুলের সাথে যোগাযোগের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ড পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু।
‘কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার পরও নাজমুলের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।’
এই অবস্থায় বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে জবাব না এলে পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে স্পষ্ট করে দেন ইফতেখার। সেই সময়সীমা ১৭ জানুয়ারি অর্থাৎ আজ দুপুরে শেষ হবে, তার জবাব দেয়ার সুযোগ ততক্ষণ পর্যন্ত। জবাব পাওয়ার পর এটা ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে যাবে। ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাদের প্রক্রিয়ায় আগাবে।’
দুশ্চিন্তায় মিঠুন
নাটকীয় একদিন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। মিরপুর-বনানী-গুলশান ছুটাছুটি। কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের নেতৃত্বে ক্রিকেটাররা বৃহস্পতিবার বিপিএলের ম্যাচ খেলেনি। সংবাদ সম্মেলনে মিঠুন জানান, ‘আন্দোলনের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের লক্ষ্য করে হুমকিও আসছে। আমরা যারা ক্যামেরার সামনে ছিলাম, তাদের সবার কাছেই কোনো না কোনোভাবে হুমকি এসেছে (হুমকি)। অজানা নাম্বার থেকে হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে। ক্রিকেটের স্বার্থই ছিল প্রধান বিবেচনা।’
বেনামি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে অডিও বার্তায় মিঠুনকে হুমকি দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ‘তোরা বাংলাদেশ ক্রিকেটে যা শুরু করেছিস তোদের কপালে দুঃখ আছে। বিসিবির বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করতেছিস, ভারতীয় দালাল। স্টেডিয়াম থেকে বের হবি না? স্টেডিয়ামে যাবি না? কোন জায়গায় নিরাপদ থাকবি? মোস্তাফিজ আর দুই একজন ছাড়া সবটির কপালে খুবই দুঃখ আছে। তোরা তামিমের দালালি করছিস।’
মিঠুনের অভিযোগ, আন্দোলনের পর ক্রিকেটারদের দেশবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে, ‘এখানে আমাদেরকে দেশদ্রোহী বা দেশের শত্রু হিসেবে বিভিন্নভাবে আখ্যা দেয়া হচ্ছে। আমরা জানি না, এখানে কোনো একটা শব্দ দেশের বিরুদ্ধে ছিল কি না।’ হুমকির ঘটনায় বিসিবি কর্তৃপক্ষও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।



