কোটালীপাড়ায় গ্রামীণ মেলায় চাঁদাবাজি

Printed Edition

রনী আহম্মেদ কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ)

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নৈয়ারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত গ্রাম্য মেলায় দোকানদারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে। কার্তিক পূজা উপলক্ষে গত ১৮ নভেম্বর শুরু হওয়া মেলার শেষ দিন ২১ নভেম্বর। তবে মেলার জন্য জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি নেওয়া হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদা তোলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, মেলা আয়োজন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শুকুরঞ্জন টাকা’র (ধলু) নেতৃত্বে ৬-৭ জনের একটি দল দোকানপ্রতি ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা তুলছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সটকে পড়েন।

এ ছাড়া জেনারেটরের জন্য দোকানপ্রতি ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শুকুরঞ্জনের ছেলে ছাত্রদল নেতা উত্তম টাকা’র বিরুদ্ধে। মেলায় আগত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, জোর করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে। চটপটি ব্যবসায়ী পুলিন মৃধা জানান, তার দুই দোকান থেকে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। কসমেটিকস ব্যবসায়ী আকাশ অধিকারী বলেন, ‘২৬ বছর ধরে এখানে আসি, কিন্তু কখনো এভাবে জোর করে টাকা নিতে দেখিনি।’ চায়ের দোকানদার লক্ষ্মী বিশ্বাস বলেন, ‘৫৫০ টাকা চাঁদা না দিলে মালামাল নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। এবারই প্রথম এসেছি, আর কখনো আসবো না।’ অভিযুক্ত শুকুরঞ্জন টাকা ধলু, মেলা কমিটির সভাপতি ও সহকারী শিক্ষক বাসুদেব টাকা’র সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাদেরকে ফোনে পাওয়া যায়নি। সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অনিমেশ গাইন বলেন, ‘ভিডিওতে শুকুরঞ্জনকে টাকা তুলতে দেখা গেছে। এটি ন্যাক্কারজনক। সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে নৈয়ারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, আয়োজকরা পুলিশ অনুমতির কথা বলেছিল। তবে নৌ পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মেলার জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।