সিলেট ব্যুরো
সিলেটে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আবারো বেড়েছে। ডেঙ্গু ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো চারজন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর সিলেট বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭১ জনে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১২ জন। তবে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য মতে, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া চারজনই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শনাক্ত হয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১২ জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল হাসপাতাল সিলেটে একজন, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দু’জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন, সদর হাসপাতাল হবিগঞ্জে দু’জন এবং লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট জেলায় ৩৪ জন, সুনামগঞ্জে ৩৪ জন, হবিগঞ্জে ৭৭ জন এবং মৌলভীবাজারে ২০ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। তন্মধ্যে অন্যান্য জেলা থেকে আসা আরো ছয়জন রোগী সিলেটে শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দু’জন, নেত্রকোনার দু’জন, বরিশালের একজন এবং নোয়াখালীর একজন রয়েছেন। সবমিলিয়ে সিলেট বিভাগে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৭১ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন।
ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজনন স্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথাসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
খুলনায় সিটি করপোরেশনের মোবাইল কোর্টে ৪ জনের জরিমানা, ৫ জনের মুচলেকা
খুলনা ব্যুরো জানান, খুলনা মহানগরীর ডেঙ্গু সংক্রমণ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণে কেসিসি পরিচালিত ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় ষষ্ঠ দিনের মতো গতকাল সোমবারও নগরীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। বাড়ির আঙ্গিনা অপরিচ্ছন্ন থাকায় ১৮নং ওয়ার্ডের নবীনগরের মো: মামুনকে তিন হাজার টাকা, গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মালিকানাধীন জায়গা অপরিচ্ছন্ন থাকায় হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আশিকুর রহমানকে পাঁচ হাজার টাকা, বিকে ক্রস রোডের বাসিন্দা বারেক মাস্টারকে দুই হাজার টাকা এবং ২৬নং ওয়ার্ডের তাবলিগ মসজিদের পেছনের বাড়ির মালিক মো: ইমরানকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজ বাড়ির আঙ্গিনা পরিচ্ছন্ন করবেন মর্মে পাঁচটি বাড়ির মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা গ্রহণ করা হয়।
কেসিসির এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরানের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে কঞ্জারভেন্সী বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশ সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন।
এ ছাড়া সোমবার সকাল থেকে নগরীর ২৬ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে মশক নিয়ন্ত্রণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালিত হয়। কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো: অহিদুজ্জামান খান, সমাজসেবক আরিফুজ্জামান অপু, আসলাম হোসেনসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।



