জাকির আবু জাফর
কোরবানি
মানবজাতির মহান দিশারী ইব্রাহিম খলিল -
কি আর বলবো তাঁর মর্যাদার কথা
রবের দরবারে তাঁর মাকাম বিস্ময়কর উঁচু
তাঁকে স্পর্শ করার স্পর্ধা করেনি আকাশ-চুম্বি আগুন!
মুহূর্তে গুলজার হলো নমরূদের কুণ্ডুুলি!
সম্ভ্রান্ত প্রাচুর্যের এক মহিমান্বিত চূড়ায় তিনি
গভীর ও গাম্ভীর্যে সমুদ্র ছাড়িয়ে যায় এবং
পর্বতও অনায়াসে খাটো তাঁর শিরের উচ্চতায়
তিনি মানব মিছিলে উৎসর্গের বিস্ময় পতাকা
সেই পতাকায় খচিত কোরবানির নিশান
এ নিশান নিঃসংকোচে উড়ছে তাকওয়ার বাতাসে
তাকওয়া?
সেতো বিশ্বাসী বুকের গহনে প্রস্ফুটিত গোপন গোলাপ!
জগতসমূহের মালিকের নির্ভেজাল প্রেমেই তার উদ্বোধন
হতে চাও যদি সম্মানিত, সকলের শ্রদ্ধার মুখ
আত্মার জমিনে রুয়ে দাও তাকওয়ার বীজ
ইব্রাহিমের মতোই রাখো উৎসর্গের উন্নত উপমা
সেই মহিমান্বিত সত্যের সৌরভ ছড়িয়ে পড়ুক
তোমার আমার এবং আমাদের কোরবানিতে
লৌকিক রক্ত মাংসের পর্দা ছিন্ন করে
জ্বলে ওঠুক অলৌকিক আকাক্সক্ষার জ্যোতি
এবং নির্দেশ করুক সেই মহান রবের সন্তোষ
যিনি আমার চেয়েও আমার নিকটে
যিনি আমার চেয়েও জানেন আমাকে
এবং যিনি না চাইতেই মিটিয়ে দেন সকল প্রাণীর অভাব প্রয়োজন ও পিপাসা
তাঁর সন্তুষ্টির চেয়ে বড় কিছু নেই মুমিন জীবনে
কিছু নেই তাঁর প্রিয়পাত্রের তালিকার চেয়ে দামী
তাঁর পবিত্রতার ঘ্রাণের মতো ঘ্রাণ কই!
কি করেই বা থাকে-
তিনিই তো মহান আরশের অধিপতি
তিনিই পবিত্রতার স্রষ্টা
তিনিই চির সৌন্দর্যের শিল্পী
গৌরবে সৌরভে সর্ব-সুন্দরে মহিমান্বিত তিনি
একচ্ছত্র অধিপতির কাছে আজ প্রার্থনা-
হে আলো ও অন্ধকারের নির্মাতা
হে জীবন ও মৃত্যুর মালিক
হে উদয় অস্তের প্রভু
আমার নামাজ আমার কোরবানি আমার জীবন
আমার মৃত্যু সবই তোমার করে নাও
ক্ষমা করো কবুল করো হে রাহিম
পৃথিবীর এইসব চাকচিক্য আমার থেকে সরিয়ে নাও, অথবা আমাকে সরিয়ে রাখো পৃথিবীর জৌলুশ থেকে। আমি তো আমার লোভের ঘোড়াটিই কোরবান দিতে চাই
জবাই দিতে চাই আমার লালসার ষাঁড়টিকে
যে কি না আমাকে কেবলই বেপরোয়া কর
আমাকে দাও ঔদার্যের শিখা, ক্ষমার জ্যোতি এবং
কেবলই আপনার প্রতি নির্ভরতার চাবি
আমরা জানি, কোরবানির রক্ত মাংস নয়
শুধু পবিত্রতম হৃদয়ের সুগন্ধিই পৌঁছে তোমার কাছে!
তুমি আমাদের পবিত্র করো হে মহান
লোকতুষ্টির বজ্রাঘাত থেকে আশ্রয় চাই তোমার কাছে
হে মন ও মানুষের মালিক
হে হৃদয় ও রহস্যের প্রভু
হে জগৎ ও যৌবনের স্রষ্টা
আমাদের দাও নফসে মুতমাইন্নার সুগন্ধি, আর
দাও তোমার সন্তুষ্টির সৌরভ
আমাদের কোরবানি হোক মহত্তম ত্যাগের নিশান!
রোকসানা রহমান
সময় তুমি ঐ পথে যাও
সময় তুমি হেলে-দুলে কোন পথে যাও, সময় তুমি
ঐ পথে যাও...
সেখানে বসে আছে, দুঃখ-কষ্টের নীল দেহের পাশে
এক পাথুরি ছায়া, সেই ছায়ায় পাথুরি ফুল
গচ্ছিত শান্তনা।
তখন জীবন বদলে যাবে অদ্ভুত জ্যোৎস্নায়
সময় তুমি ঐ পথে যাও।
ঐ শব্দহীন শরীরের রাজ্যপাটে নির্মেঘ আকাশ
বিদ্রোহো জানাবে, নীল, নীল কষ্টের রক্তকণা
শিরা- উপশিরা ছিঁড়ে নীল কান্নার জলের উপমায়।
সেই কান্নানদীর জলে হাত রেখে, যে জীবন
ভাঙতে-ভাঙতে শূন্যতা হাওয়ায় দুলিয়ে
ঘুছিয়ে, রেখেছে বন্দিশালায়।
সেই কষ্টের দেহের ছায়ায় রোদ পড়েছে, আর এক
জীবন গড়ার।
সময় তুমি এই পথে নয়, ঐ পথে যাও
সেখানে দুঃখ-কষ্টের নীল পাথুরি ছায়া।
সেই দুঃখের দরজায় কড়া নাড়ছে রোদ্দুর
তন্ময়ী, সেই কষ্টের শরীরি ছায়ায় সৌরভ ছড়াতে
চায় তপ্ত উষ্ণতার স্পর্শে।
সে জেগে উঠবে ফের খরস্রোতা নদীর মতন
অমৃত উৎসবে, জীবন বদলে যাবার।
সময়,এই পথে নয়, আজ ঐ পথে যাও
সেখানে বসে আছে দুঃখ-কষ্টের এক পাথুরী
দেহের ছায়া...।
জাহাঙ্গীর ফিরোজ
আলোর নিচেই অন্ধকার যুগ
বিজলির প্রখর আলোর নীচে
আন্ধকার যুগ খেলা করছে
পশুর অধম নিয়মে মচ্ছব চলেছে ;
সাইবার স্পেস থেকে নারী,
কাম মোহ মাৎসর্য জুয়া জোচ্চুরি
অঢেল নেমেছে ভূভাগে।
শূন্যে বাগান মনোহর
ভাববার নেই অবসর
অহংকার ভোগের অসুখ চরাচরে
প্লেগ; বিষবাষ্প ছড়ায়।
আমাদের সভ্যতা চোরাবালিতে এখন
ডুবে যাচ্ছে ... হায়!!
মুজতাহিদ ফারুকী
আঁধার নিয়েছে তাকে
শেষ নূপুরের ধ্বনি মিলিয়েছে কখন কে জানে,
পরিত্যক্ত সেই হাভেলীর অতলান্ত গভীর আঁধার
বুঝি খুঁজে পেয়েছিলো তাকে
বুঝি টেনে নিয়েছিলো
তিমির পেটের মতো অন্ধকার নাড়ির ভিতর
অন্তহীন নৈঃশব্দের নিবিড় কুহকে
ত্রাসিত প্রহর ঝুঁকে শুঁকেছিলো শরীরের উষ্ণ তাজা খুন
সেদিনের সেই রাতে হাস্যরোল যখন নিঝুম
যখন বরফহিম সাদা সাদা জোছনা নিপুণ
কুয়াশার পাকে পাকে বুনে তোলে বিস্মরিত কাহিনীর ওম
আকাশের সব ঘুম বুঝি নেমে এসেছিলো চোখে।
শায়রুল কবির খান
ভালোবাসার প্রখরতা
তোমার ভালোবাসা থেকেই
আমার ভালোবাসা জন্ম-
যা নিরন্তর।
তোমার ভালোবাসা’র কোনো মৃত্যুই নেই
এই ভালোবাসা’র আবেগগুলো অন্যরকম-
দেখানো যায় না, ছোঁয়াও যায় না
ক্ষণে ক্ষণে অনুভব করি দূর-দূরান্ত থেকে।
এমন এক ভালোবাসা-
যার স্বাদ আর গন্ধ
অফুরন্ত-
আছে নোনা, আছে তেতো, আছে ঝাল টক মিষ্টি।
এ ভালোবাসা প্রবল এক আকাক্সক্ষায় আরো কাছে পেতে চায়
অথচ এই দূরত্বই
ভালোবাসার প্রখরতা আরো বাড়িয়েছে...।



