নয়া দিগন্ত ডেস্ক
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, দেশে এখন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সঙ্কট চলছে। এ থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্টদের কাজ করার সময় হয়েছে।
গতকাল রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভা কক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আগ্রাসনরোধ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা হবে পুরোপুরি সত্য। এখানে মিথ্যা কিংবা অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই। আপসের কোনো সুযোগ নেই। যা ইচ্ছা তা লিখে দেয়া সাংবাদিকতা নয়। অথচ অহরহ এটা হচ্ছে। এ জন্য জবাবদিহি প্রয়োজন। সত্য লিখবেন, রাষ্ট্র আপনাকে নিরাপত্তা দেবে। সাংবাদিকদের বিবেকসম্পন্ন হওয়ার তাগিদ দিয়ে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, আজকে নিজ থেকেই আমরা আত্মসমর্পণ করে বসে আছি। দাস-সাংবাদিকদের মানুষ ঘৃণা করে। এ সময় গণ-অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন সরকারের দলদাস সাংবাদিকদের গণবিরোধী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। দেশে অপসাংবাদিকতার প্রসঙ্গ টেনে কাদের গনি চৌধুরী আরো বলেন, বগল সম্পাদকরা এখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছেন। পত্রিকা ছাপিয়ে সেটি বগলে করে সচিবালয়সহ বিভিন্ন দফতরে গিয়ে তদবির বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছেন তারা। এসব বগল সম্পাদক, হলুদ সাংবাদিকতার কারণে মানুষ অতিষ্ঠ।
ভারতের গণমাধ্যম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের তথ্য আগ্রাসনের শিকার হচ্ছি। ২০২৫ সালে ভারতীয় গণমাধ্যমে ১৪০টি ভুয়া প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। তারা দেশে দাঙ্গা বাধিয়ে দিতে চায়।
সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বাছির জামাল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমেই বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল জনমুখী গণমাধ্যম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এ বি এম রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।



