গৌরীপুরে ১০ দিনে ৩ খুন বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ

Printed Edition

ময়মনসিংহ অফিস

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে তিনটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। একের পর এক হত্যার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ রোববার রাতে উপজেলার বয়রা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চন্দ্রপাড়া সড়কে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ময়মনসিংহের একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের কর্মকর্তা আব্দুল বারেক আকন্দ ওরফে মজনু মুন্সি (৫৫)। নিহতের ছেলে, বিজিবি সদস্য মাজহারুল ইসলাম আকাশের দাবি, ছিনতাইকারীদের চিনে ফেলায় তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তার বাবা কয়েকজনের সম্পৃক্ততার কথাও জানিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এর আগে ৩০ জুন গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি মানিক মিয়াকে (৪৪) প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২ জুলাই নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা বাদি হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সী, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল ইমরান খান এবং গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিফাত খানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ মামলায় কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।

এরও আগে, ২৫ জুন উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের বারুয়ামারী গ্রামের একটি বিল থেকে আলিফ মাহমুদ (২২) নামে এক গার্মেন্টকর্মীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় এক কৃষক সকালে বিলে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না গেলে অপরাধপ্রবণতা আরো বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা হত্যাকাণ্ডগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

গৌরীপুর থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’