বিএনপি নেতাদের সাথে ইইউ রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

Printed Edition
ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে দলটির নেতাদের সাথে বৈঠক করেন : নয়া দিগন্ত
ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে দলটির নেতাদের সাথে বৈঠক করেন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বিএনপি নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশেষ সহযোগী উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ের এক সদস্য জানান, বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শুধু দেশের জনগণই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। ভোটের তিন মাস আগে নয়, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে এখন থেকেই ইসিকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। বাংলাদেশের বিষয়ে দেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। বিদেশীদের কাছে নালিশের কিছু নেই, বাংলাদেশে কী হবে তা জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি সামনে আসায় তিন মাস অপেক্ষা না করে নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার বা তাদেরকে অবগত করার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। দেশের মানুষই শুধু ভোটের অপেক্ষায় নেই, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও বাংলাদেশের দ্রুত গণতান্ত্রিক সরকার দেখতে আগ্রহী। নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

এ দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্তর্র্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পর তারা পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা প্রত্যাশা করছেন, নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য জানান, ইইউ বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তারা একই সাথে দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করতে, সংসদকে আরো কার্যকর করতে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা জোরদারে সহায়তা করতে চায়।