টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অবৈধ বালু ঘাট দখল ও কনসোডিয়ামের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ২২ জন আহত হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের ন্যাংড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি গ্রুপের ১০ জন এবং বিএনপির অপর গ্রুপের ১২ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, সিরাজকান্দী বাজার এলাকার বাগানবাড়ীর বালুর ঘাট নিয়ন্ত্রণ ও বালুর ঘাটের কনসোডিয়ামের বিপুল অঙ্কের টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলছিল নিকরাইল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল লতিফ ও সদস্য রিপন ডাক্তারের সাথে। একপর্যায়ে আব্দুল লতিফ ও রিপন ডাক্তার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ২২ জন আহত হয়। এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে এক নারীসহ ৮-৯ জনকে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত রিপন ডাক্তার বলেন, আব্দুল লতিফ তার দলবল নিয়ে বিগত ১৬-১৭ বছর নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা নূহু মেম্বারের সাথে আঁতাত করে আমাদের জায়গা জমি অবৈধভাবে জবর দখল করে অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা করেছে। সেখানে তাদের কোনো জমিজমা নেই। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আমাদের জায়গায় ঘর তুলে ফেরত নেয়ার জন্য দখলে নেই। এ নিয়ে শনিবার ন্যাংড়া বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত সালিসি বৈঠকে লতিফের লোকজন হট্টগোল সৃষ্টির একপর্যায়ে বৈঠক স্থগিত করে উপজেলা বিএনপির নেতারা। পরে হঠাৎ করে লতিফের লোকজন আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করলে ১২ জন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
নিকরাইল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও আহত আব্দুল লতিফ পক্ষের পলশিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হোসেন আলী শেখ বলেন, আমাদের ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাই-ভাতিজা ও রিপন ডাক্তারের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমিসহ ১০ জন আহত হই।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



