শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক চা প্রদর্শনী। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, চীনের সাথে বাংলাদেশের চা বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনার দিগন্ত খুলছে। আজকের প্রদর্শনীতে চীনা প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের চা বাণিজ্যের সম্প্রসারণে নতুন দুয়ার খুলল। বাংলাদেশে চীনা প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষণা চা শিল্পকে আরো এগিয়ে নেবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে বাংলাদেশে আরো নতুন উদ্ভাবন ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করবে। আশা করি চীন সরকার বাংলাদেশেও তাদের চা শিল্পের নতুন ধারণা শেয়ার করবে এবং নতুন ভ্যারিয়েন্টের উদ্ভাবনে সহযোগিতা নিয়ে পাশে দাঁড়াবে।
মঙ্গলবার (২০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে এ চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে চা বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন চা বাগান মালিক, উদ্যোক্তা ও রফতানিকারকদের অংশগ্রহণে সিলেটে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় এ প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর আয়োজন করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধীনে চাইনিজ কর্নার, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগ এবং ঢাকার চীনা দূতাবাস। অনুষ্ঠানে চীনের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলের নেতা লি শাওপিং বলেন, বাংলাদেশে চা একটি ঐতিহ্যবাহী পণ্য। দুই দেশের মধ্যে এ খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ অসীম। এ ধরনের উদ্যোগ সেই পথকে প্রশস্ত করে।
শাবিপ্রবির পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত চাইনিজ কর্নারের কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মো: সাহাবুল হকের সভাপতিত্বে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শাওপিং।
সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে এসএস ব্লাক টি (২), দ্য কনসলিডেটেড টি (ফিনলে), ফিয়াজি টি, গার্ডেন ফ্রেশ টি, মাগলা টি, এম আহমেদ টি (২), ইকো ডাই, মালনীছড়া, লুস্সো বেল্লা, পদ্মা টি, ম্যাকসন ব্রাদারস, ন্যাশনাল টি সাঙ্গো, মুনা ট্রেডার্স, তালুকদার টিসহ দেশীয় ১৬টি চা বাগান ও আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান, ৩টি চীনা প্রতিষ্ঠান ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগ অংশ নেয়।
চায়ের প্রদর্শনীবিষয়ক এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসেন, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাওলানা খাইরুল হোসেন, বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তাহসীন আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে চীনের চায়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফ্যুসিয়াস ইনস্টিটিউট পরিচালক ইয়াং হুই, প্রকারভেদ ও প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে বক্তব্য রাখেন চীনা শিক্ষক জং কিয়ানআন এবং চা শিল্প নিয়ে বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের শিক্ষক লি ইয়াংসি।
বাংলাদেশের চা শিল্প নিয়ে বিশদ বক্তব্য রাখেন শাবিপ্রবির ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমেদ, কর্মসংস্থান ব্যাংকের পরিচালক সাংবাদিক সালাউদ্দিন বাবলু।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন শাবিপ্রবির পলিটিকাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফুর রহমান এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত পলিটিকাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. দিলারা রহমান। অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন, সহকারী অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, চা উৎপাদন ও বিক্রির সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা, চা শ্রমিক নেতারা।
এ সময় বক্তারা বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর ছয় দশমিক আট মিলিয়ন মেট্রিক টন চা উৎপাদন হয়ে থাকে। এর মধ্যে চীনে তিন দশমিক দুই মিলিয়ন ও বাংলাদেশে এক লাখ টন চা উৎপাদন হয়। চীন বর্তমানে প্রযুক্তির সাহায্যে চা উত্তোলন করে থাকে। তবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হওয়াতে তা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে। চীন ও বাংলাদেশের একাডেমিক, গবেষণা ও বাণিজ্যিক আলোচনার অংশ হিসেবে এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অনুষ্ঠানে চীনা প্রতিনিধি দল ও সিলেটের চা বাগান কমিউনিটির নিজস্ব পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চীনা ভাষার অঙ্কন ও ক্যালিওগ্রাফি প্রদর্শনী, চীনের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চা তৈরির ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হয়।



