সঙ্কুুচিত হয়ে আসছে রাজধানীর ফুটপাথ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সঙ্কুচিত হয়ে আসছে রাজধানীর ফুটপাথ। অধিকাংশ ফুটপাথ দখল করে নানান পণ্যের দোকান সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ফুটপাথ ধরে যাতায়াতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লে ফুটপাথ ধরে হাঁটার উপায় না পেয়ে সড়কে নামতে দেখা যায় পথচারীদের। অনেক জায়গায় ফুটপাথ এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যে সেখানে হুইলচেয়ার নিয়েও চলাচল অসম্ভব।

পথচারীদের অভিযোগ, এসব দোকানের কারণে ফুটপাথ রেখে ঝুঁকি নিয়ে প্রধান সড়কে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। আবার প্রধান সড়কেও অনেক ছোট-বড় দোকান থাকায় সড়কগুলো সঙ্কীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সেখানেও হাঁটার সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে তাদের।

ডিটিসিএ ও সংশ্লিষ্ট গবেষণার তথ্য তুলে ধরে সিএলপিএ জানায়, ২০২৩ সালের জরিপ অনুযায়ী গ্রেটার ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩ দশমিক ৮৭ কোটি যাত্রা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ যাত্রা হয় হাঁটার মাধ্যমে, যা সংখ্যায় প্রায় ১ দশমিক ৪৭ কোটি। ২০০৯ সালে হাঁটার হার ছিল ১৯ থেকে ২০ শতাংশ, যা ২০২৩ থেকে ২০২৫ সময়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হয় তাদের। দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক চুক্তি আর অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগসহ ফুটপাথে নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা করার অনুমতি মেলে।

বিগত সময়গুলোতে ফুটপাথ অবৈধ দখলদারমুক্ত করতে দফায় দফায় অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষ হতে না হতেই আবারো দোকান সাজিয়ে বসতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের।

বিরাজমান অবস্থায় নগর কর্তৃপক্ষের ফুটপাথ সঙ্কোচনের পদক্ষেপ পথচারীদের জীবনের জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে মনে করছে সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) ট্রাস্ট। সংগঠনটির অভিযোগ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কাকরাইল, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রশস্ত ফুটপাথ কেটে ছোট করে ফেলেছে।

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন সিএলপিএর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, কোনো কোনো এলাকায় ফুটপাথ এতটাই সঙ্কুচিত করা হয়েছে যে পথচারীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার কিছু এলাকায় ফুটপাথ পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ বেআইনি এবং নাগরিক অধিকার হরণের শামিল। ডিএসসিসির এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিএলপিএ বলেছে, সিটি করপোরেশন এক দিকে মানসম্মত গণপরিবহন দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, অন্য দিকে মানুষের হাঁটার অধিকারও কেড়ে নিচ্ছে। ঢাকার সড়কগুলো মূলত ব্যক্তিগত গাড়িকেন্দ্রিক করে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

একই সাথে এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ)-এর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সিএলপিএর বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশই পথচারী। যদিও সরকারের বিভিন্ন নীতিতে পথচারী অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে ঢাকার সড়কে পথচারীদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, অনেক জায়গায় ফুটপাথ এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যে সেখানে হুইলচেয়ার নিয়ে চলাচল সম্ভব নয়, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।