ক্রীড়া প্রতিবেদক
নাঈম ইসলাম ২০০১-০২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত খেলেছেন। গত ডিসেম্বরেও তিনি জাতীয় ক্রিকেট লিগে রংপুর বিভাগের হয়ে খেলেছেন। দীর্ঘ এক যাত্রার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। এরপর যা বললেন তা একজন জাত খেলোয়াড়ই বলতে পারেন। ‘আমি কী পাইনি তা নিয়ে ভাবতে চাই না, আমার যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট।’
খেলোয়াড়ি জীবনে অঘোষিত সমাপ্তি নাঈমের। কারণ তিনি এখন চার সদস্যের জাতীয় নির্বাচক প্যানেলের অংশ। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার ঝুলিতে আছে প্রথম শ্রেণীতে ১১ হাজারের বেশি রান। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পেলেন। সাধারণত খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ক্রিকেটাররা কোচিং বা অন্য কোনো ভূমিকার দিকে ঝুঁকে পড়েন। খেলোয়াড় থেকে নির্বাচক হয়ে নাঈমের ভাবনা, ‘এটা এক অপ্রত্যাশিত যাত্রা। অবশ্য এই যাত্রা সফল না হলে আমি কোচিং লাইনে প্রবেশের চেষ্টা করতাম, কারণ আমার লেভেল ১ সম্পন্ন করা আছে। হয়তো আর এক বছর খেলতে পারতাম। তখনই বোর্ডের সাথে কাজ করার সুযোগটি আসে। আগেই ভেবে রেখেছি, আমি যদি নির্বাচক হই, তবে বাংলাদেশের জন্য এমন কিছু অর্জন করার চেষ্টা করব যা খেলোয়াড় হিসেবে আমি পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি।’
খেলোয়াড়রা অনেক সময় পারফর্ম করেও দলে সুযোগ পান না, আপনি নিজেও এই ব্যবস্থার ‘শিকার’ হয়েছেন। নির্বাচক হিসেবে তার কি পুনরাবৃত্তি হবে? সহজ জবাব নাঈমের, ‘পারফর্ম করেও ডাক না পেয়ে বছরের পর বছর নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখা ছিল খুবই কঠিন। আমি নিশ্চিত করতে চাই যে, কোনো খেলোয়াড় যদি পারফর্ম করে, তবে সে যেন সুযোগ পায়। কেবল ১৫ জনের স্কোয়াড থাকে, অন্যদের বাদ দিতেই হয়। আমি মনে করি এই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে আলোচনা করা উচিত। কোনো খেলোয়াড় যদি জিজ্ঞেস করে যে কেন দলে নেই, তখন সত্যটা প্রকাশ করে তাদেরকে অনুপ্রেরণামূলক বুঝ দিতে হবে।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমি এনসিএলে অধিনায়কত্ব করেছি এবং নির্বাচকদের সাথে বসেছি। এই ডিজিটাল যুগে সব তথ্য, রান, স্ট্রাইক রেট, বছরের পর বছর পারফরম্যান্স, সবই অনলাইনে পাওয়া যায়। আমি যদি এই কাজের জন্য পারিশ্রমিক পাই, তবে আমাকে বুদ্ধি খাটাতে হবে। পারফরম্যান্সই হতে হবে প্রথম অগ্রাধিকার।’
বিভিন্ন ফরম্যাট নিয়ে নাঈমের ভাবনা, ‘সাদা বলে পারফর্ম করা একজন খেলোয়াড়ের জন্য হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক লাল বলের ক্রিকেটে ঝাঁপিয়ে পড়া অত্যন্ত কঠিন। তাদের প্রস্তুতির সময় কমে যায় এবং টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা মানুষ এবং আমাদের ভুল হবে, তবে আমরা এমন সিদ্ধান্ত কমিয়ে আনার চেষ্টা করব যা খেলোয়াড়দের মনে প্রশ্ন জাগায় যে কেউ কিভাবে দলে সুযোগ পেল। সবাই মিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে ভালো দল গড়া সম্ভব এবং তা তিন ফরম্যাটের যেকোনোটিই হোক না কেন।’
নাঈম যোগ করেন, ‘আমাদের একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে দেশের জন্য দল গঠন করা, যার আউটপুট হবে সুন্দর। আর খেলোয়াড়দেরও মাথায় রাখতে হবে, কাউকে না কাউকে বাদ পড়তেই হবে, নির্বাচকরা কারো শত্রু নয়, পারফরম্যান্সে হয়তো একটু এদিক/ওদিক হওয়ার কারণে অথবা পরিসংখ্যান/অভিজ্ঞতার কারণেই দলে জায়গা হয়নি। এর অর্থ সে খারাপ/অনুপযুক্ত সেটি ভাবা মোটেই ঠিক হবে না। একে অপরের প্রতি আস্থা রাখতে হবে।’



