- চালক-সহকারী নারী, প্রাথমিকভাবে ১৪ বাসে বিশেষ সেবা
- নারীর নিরাপদ যাতায়াতের পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থান
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় চালু হয়েছে বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। গোলাপি রঙের এসব বাসের চালক ও সহকারীও নারী। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে প্রাথমিকভাবে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে ১০টি, বগুড়ায় দু’টি এবং চট্টগ্রামে দু’টি বাস দিয়ে এ সেবা শুরু হয়েছে। কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ নারী যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোও এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম অনুষ্ঠানে জানান, ঢাকার গণপরিবহনকে পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব করতে ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ বাসসেবা ভবিষ্যতে আরো সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রাথমিকভাবে রাজধানীর ১০টি রুটে পিংক বাস চলবে। রুটগুলো হলো- নতুন বাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও, মিরপুর ১০-মতিঝিল, মিরপুর-মতিঝিল, মিরপুর ১২-মতিঝিল, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা, মোহাম্মদপুর-মতিঝিল, আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল এবং গাজীপুর-বিমানবন্দর।
নতুন বাজার থেকে মতিঝিলগামী বাস কোকাকোলা, নতুন বাজার, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাবে। তালতলা-মতিঝিল রুটে খিলগাঁও, বাসাবো, মুগদা, কমলাপুর, আরামবাগ, শাপলা চত্বর ও সচিবালয় হয়ে বাস চলবে। ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও রুটে যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, ওয়ারী, গুলিস্তান, পল্টন, সচিবালয় ও মৎস্য ভবন হয়ে বাস চলাচল করবে।
মিরপুরের বিভিন্ন রুটের বাসগুলো মিরপুর-১০, মিরপুর-১, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, ফার্মগেট, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত যাবে। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে চাষাঢ়া, শিবু মার্কেট, সাইনবোর্ড, রায়েরবাগ, শনির আখড়া, টিকাটুলি ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচল করবে বাস। মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটে ধানমন্ডি, সিটি কলেজ, নিউমার্কেট, শাহবাগ ও পল্টন হয়ে মতিঝিল এবং কমলাপুর পর্যন্ত সেবা থাকবে।
আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল রুটে আজমপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, কুর্মিটোলা, বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট, শাহবাগ ও গুলিস্তান হয়ে বাস চলবে। গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটে গাজীপুর শিববাড়ী, গাজীপুর চৌরাস্তা, বোর্ডবাজার, গাজীপুরা, আব্দুল্লাহপুর ও আজমপুর হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত যাবে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছেন, গতকাল চট্টগ্রামেও ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু করা হয়েছে। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ফ্রি পোর্ট হয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ২২ থেকে ২৫ কিলোমিটার পথে দু’টি গোলাপি বাস চলবে। পুরো রুটে নারী যাত্রীদের সুবিধার জন্য নির্ধারিত স্টপেজ রাখা হয়েছে। কালুরঘাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত ভাড়া ১০ টাকা এবং কালুরঘাট বা কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ভাড়া ৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস দুটির চালক ও সহকারী নারী।
চট্টগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ। জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় বিপুলসংখ্যক নারী কাজ করেন। তাদের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই নারী চালক ও সহকারী দিয়ে এ সেবা চালু করা হয়েছে।
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ায়ও এদিন দুটি বিশেষ বাসসেবা উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ থেকে বাস দুটি শেরপুর-মাটিডালি-মোকামতলা রুটে চলাচল করবে। পরে এগুলো বগুড়া শহরের বিভিন্ন রুটে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাস দুটির চালক ও কন্ডাক্টর নারী। বগুড়া বিআরটিসি বাস ডিপোর ব্যবস্থাপক শাহিনুল ইসলাম জানান, প্রচলিত লাল বাসের পরিবর্তে এসব বাস গোলাপি রঙে পরিচালিত হচ্ছে এবং যাত্রীদের পাশাপাশি পরিচালনাকর্মীরাও নারী।
বিআরটিসি সূত্র জানায়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাসসেবা চালু করা হয়েছে। একই সাথে পরিবহন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, সড়ক সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক ও বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ও বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন বাড়াতে ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রচলিত আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়ায় অনুমোদন ও দরপত্রসহ পুরো প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই দ্রুত বাস চালুর লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিআরটিসি বর্তমানে পাঁচ শতাধিক বাস পরিচালনা করছে এবং সংস্থাটির মোট বাসের সংখ্যা প্রায় এক হাজার ২০০ বা তার বেশি। সংস্থাটি বর্তমানে লোকসানে না থাকলেও ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও সেবার মানে আরো পরিবর্তন প্রয়োজন।



