রংপুর ব্যুরো
রংপুরে অপহরণ করে এক বিএনপি নেতার বাড়িতে নিয়ে একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জমি বিক্রির বায়নাপত্র ছিনিয়ে নেয়া এবং জীবননাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে নগরীর মাহিগঞ্জ এলাকার আলাল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তোলেন।
লিখিত বক্তব্যে আলাল দাবি করেন, পীরগাছার বড়দরগা বাজারে সাড়ে তিন শতক জমি ক্রয়ের জন্য ফুল মিয়া নামের একজন মালিকের সাথে ১৮ লাখ পাঁচ হাজার টাকার বায়না চুক্তিপত্র সম্পন্ন করি। কিন্তু সময় শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরে পুরো টাকা দিয়ে দলিল করতে চাইলে ফুল মিয়া তা দিতে অস্বীকার করেন। পরে বিষয়টি আমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানাই। তারা ফুল মিয়াকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক করেন। সালিসে অন্যত্র জমি বিক্রি করে বায়নার টাকা আলালকে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং ফুল মিয়া তা মেনে নিয়ে টাকা দেয়ার অঙ্গীকার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, কয়েক দিন পরে রাতে পীরগাছা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আমাকে যুবদল নেতা রুবেল রানার বাড়িতে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে তারা আমার কাছ থেকে বায়না চুক্তিনামাটি ছিনিয়ে নেন। এবং ১৮ লাখের পরিবর্তে আট লাখ টাকায় সমাধান করার জন্য চাপ দেন। আমি রাজি না হওয়ায় নেতারা আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। আলাল দাবি করেন, এ ব্যাপারে আমি জড়িত সবার বিরুদ্ধে মাহিগঞ্জ থানায় অভিযোগ দাখিল করি। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উল্টো অভিযুক্ত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা আমার বাড়িতে এসে অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য নতুন করে হুমকি দিচ্ছে। এতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তিনি বলেন, ফুল মিয়া জমি বিক্রি করলেও এখন আর আমাকে টাকা দিচ্ছে না। উল্টো আমাকে নানাভাবে হয়রানি করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আলাল জীবনের নিরাপত্তার পাশাপাশি জড়িত বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বায়নাপত্রের ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে দেয়ার দাবি জানান প্রশাসনের কাছে। অন্য দিকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে একই স্থানে দুই দিন আগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির মালিক ফুল মিয়া ও বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন থানার ওসি মাইদুল ইসলাম জানান, আলালের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তাকে জিম্মি করে চুক্তিপত্র ছিনিয়ে নেয়ার মতো কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। আরো তদন্ত করছি।



