টেকনাফে এক খেপে ধরা পড়ল ৭০০ লাল কোরাল!

Printed Edition

ঈদগাঁও (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

কক্সবাজারের টেকনাফসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ফিশিং ট্রলারের জালে এক খেপে প্রায় সাত শ’ লাল কোরাল মাছ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ৬৭৭টি মাছ বিক্রি করা হয়েছে ১০ লাখ টাকায়।

বুধবার সকালে সেন্টমার্টিন চ্যানেলের মৌলভীর শীল এলাকায় আবুল কালাম মাঝির ট্রলারে কোরালগুলো ধরা পড়ে। বিকেলে মাছ নিয়ে জেলেরা শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশারী ঘাটে যান।

ট্রলার মালিক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, মঙ্গলবার শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশারী ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে ট্রলারটি ছেড়ে যায়। ট্রলারের মাঝি আবুল কালামের নেতৃত্বে ৯ জন মাঝিমাল্লা ছিলেন তাতে। সন্ধ্যায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের উত্তর পাশের চ্যানেলে ট্রলারটি নোঙর করে জেলেরা জাল বসান। সকালে তাতেই লাল কোরালগুলো ধরা পড়ে।

তিনি বলেন, প্রায় সাত শ’ মাছ থেকে ৬৭৭টি মাছ বিক্রি করা হয়েছে ১০ লাখ টাকায়। প্রথমে মণ ২৪ হাজার টাকা ধরে দাম হাঁকা হয়েছিল ১২ লাখ টাকা। পরে দর কষাকষি করে ২৩ হাজার টাকা মণে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী রহিম উল্লাহ বলেন, মাছগুলো বরফ দিয়ে মিস্ত্রিপাড়া ফিশারীতে রাখা হয়েছে। মাছগুলো কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে নিয়ে বিক্রি করা হবে।

বঙ্গোপসাগরের গভীর জলের মাছ কোরাল সব সময় হাটবাজারে পাওয়া যায় না। এ জন্য এ মাছের দাম কিছুটা বেশি।

শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রীপাড়া ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাসান বলেন, লাল কোরাল গভীর সমুদ্রের মাছ। সেন্টমার্টিন চ্যানেলে এ মাছ বেশি ধরা পড়ে। বেশ কিছুদিন ধরে সাগরে মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। বুধবার থেকেই ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। অন্য জেলেরাও লাল কোরাল মাছ ধরতে সেন্টমার্টিন চ্যানেলে জাল ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

টেকনাফের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, সুস্বাদু কোরাল মাছের কদর দেশব্যাপী। বঙ্গোপসাগরের গভীর জলের মাছ কোরাল। মাছটি সাধারণত এক থেকে ৯ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলেন, এ মাছ উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল বিশেষত পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেখা যায়। এ ছাড়া এশিয়ার উত্তরাঞ্চল, কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্ব আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলেও এদের দেখা যায়।