নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ব্রিটেনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সংস্থা দ্য ফিউচার ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ‘একটি উন্নততর বাংলাদেশের রূপকল্প’ শীর্ষক কর্মকৌশল ও নীতি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার এলাকায় ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চব্বিশের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা হিসেবে তিন শতাধিক পৃষ্ঠার দীর্ঘ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হয়।
লন্ডনভিত্তিক দ্য ফিউচার ইনস্টিটিউট একটি অরাজনৈতিক এবং অলাভজনক আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং বিশেষত মুসলিম সমাজের নানা বিষয় নিয়ে গবেষণা, কর্মকৌশল প্রণয়ন ও পরামর্শমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
‘ভিশন ফর এ বেটার বাংলাদেশ : এ পলিসি রোডম্যাপ ফর এ নিউ, ডিফারেন্ট গভর্মেন্ট’ নামে এ দীর্ঘ পরিকল্পনাপত্রটি রচনার কাজে ছয়টি দেশ থেকে বিশজনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ গবেষক যৌথভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।
ফিউচার ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা পরিষদের সহসভাপতি এবং কৃতী ব্রিটিশ আইনবিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের গবেষণাবিষয়ক পরিচালক রাইয়ান আজমী পরিকল্পনাপত্রটির সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন।
এ পরিকল্পনাপত্রের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একটি দেশে নতুন একটি সরকার নির্বাচনী পরিকল্পনায় তাদের মূল শক্তি ব্যয় করার পর সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে যথার্থ এবং উপযুক্ত পরিকল্পনা ছাড়াই দেশ পরিচালনার প্রাথমিক কাজ শুরু করে। এর ফলে সংস্কারে বিলম্ব ঘটে এবং পাশাপাশি নীতিমালা সংশ্লিষ্ট শূন্যস্থান পূরণে সরকারের বাইরের অদৃশ্য শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ ঘটে। এ কারণেই বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য পরামর্শমূলক নীতিমালা হিসেবে এই প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনাপত্রটি প্রণয়ন করা হয়েছে যেখানে জনগণের আকাক্সক্ষা এবং অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, সংস্থাটি প্রত্যাশা করে এই পরিকল্পনাপত্রটি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য সহায়ক একটি প্রতিবেদন হিসেবে কাজ করবে। পরিকল্পনাপত্রটিকে মৌলিকভাবে পাঁচটি প্রতিপাদ্যের ওপর গঠন করা হয়েছে। এই মূল প্রতিপাদ্যগুলো হলো ন্যায়ভিত্তিক ভারসাম্য ও আস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জাতীয় সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় রূপরেখা, কূটনীতি ও প্রতিরক্ষার সমন্বয়ে জাতীয় সার্বভৌমত্বের সুসংহতি, স্থিতিশীল সমাজের লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতির বিকাশ।
এই পাঁচটি মূল প্রতিপাদ্যের ভিত্তিতে মোট সতেরোটি নির্দিষ্ট বিষয়ে এই প্রতিবেদনে পরিষ্কার ভাষায় নীতিমালা, পরিকল্পনা এবং ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়গুলোর মধ্যে আছে দুর্নীতি দমন, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক নীতিমালা, জনসংখ্যাবিষয়ক নীতিমালা, প্রযুক্তি, কূটনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ, পরিবহন ও যোগাযোগ, সংস্কৃতি, নারী অধিকার, গণমাধ্যমসহ আরো বিভিন্ন ক্ষেত্র।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের পর্যালোচনা পর্বে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স গ্রানথাম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অতিথি অধ্যাপক এবং ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক প্রফেসর হ্যানস পিটার লানেকস এ প্রতিবেদনটিকে একটি বাস্তবসম্মত, সমন্বিত এবং ব্যবহারিক রূপকল্প হিসেবে অভিহিত করেন।
৩০০ দুই পৃষ্ঠার দীর্ঘ এ পরিকল্পনাপত্রটি সবার ডাউনলোড এবং পাঠের সুবিধার্থে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে (যঃঃঢ়ং://ঃভরঁশ.ড়ৎম/হবংি/ারংরড়হ-নফ-২০২৬) উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।


