ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, স্বাধীনতার বহু আকাক্সক্ষা এখনো পূরণ হয়নি। সেই অপূর্ণতার কারণেই নতুন প্রজন্মকে আবারো রক্ত দিতে হয়েছে। আমরা চাই, সামনে যাতে আর এমন না হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি দেশের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনের চেতনার ভিত্তিতে একটি সাম্যভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় তিনি বীর শহীদ, বীরাঙ্গনা ও স্বাধীনতার পক্ষে সংগ্রামকারী সবাইকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ’৭১-এর আকাক্সক্ষা এবং ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার আলোকে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, আপনারা দেখেছেন যে বাংলাদেশের ইতিহাসে সরকার গঠন করেছে, এমন অনেকেই মহাপরাক্রমশালী ছিল, অনেক শক্তিশালী ছিল, কিন্তু তারা যখনই গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে, গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তারা কিন্তু ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় পাওয়ার পরও ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। একইভাবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের দমনপীড়নের পর জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন কায়েমের চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত তা জনগণের আন্দোলনের মুখে টেকেনি।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, এখনো যদি গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকার এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা তাদেরকে বলতে চাই যে অবশ্যই এত রক্তের বিনিময়ে যেই সংস্কার এবং যেই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের শহীদের পরিবাররা দেখেছে, যেই বাবা-মায়েরা দেখেছে এবং আহত সহযোদ্ধারা দেখেছে, সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। এবং এই জনরায় বাস্তবায়ন না করলে বাংলাদেশের যে ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে ভোট দিয়েছে, তারা কিন্তু রাস্তায় নামতে দ্বিতীয়বার ভাববে না।
তিনি আরো বলেন, সুতরাং আপনারা জনগণের পক্ষে আসুন, যাতে আমরা সবাই মিলে একসাথে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারি। যদি জনগণের বিপক্ষে যান, তাহলে জনগণকে নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্যই আমাদেরকে আবার মাঠে নামতে হতে পারে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি সরকারের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান জানান দিচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে আসছে। গতকাল শহীদ মিনারে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়া হয়েছে। এখনো জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি।
তিনি বলেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান সরকারের তত্ত্বাবধানে উচ্চারিত হওয়া আমাদের সন্দেহ বাড়াচ্ছে যে, নির্বাচন ভারতের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে হয়েছে। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাব, এই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার জন্য।
নাসীরুদ্দীন বলেন, আমরা সরকারের ফাঁদে পা দেবো না। সরকার দায়িত্ব নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে যারা ‘জয় বাংলা’ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করছে, তাদের নিয়ন্ত্রণে আনবে। আওয়ামী লীগের সাথে যে সমঝোতা হয়েছে, তা দেশের স্বার্থে হোক।



