ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টায় নেতারা

Printed Edition
ন্যাটোর বিশেষ ফোরামে ২৮১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের বিশাল যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও সামরিক বিনিয়োগ চুক্তি চূড়ান্ত করার পর সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের গ্রুপ ছবি  : ইন্টারনেট
ন্যাটোর বিশেষ ফোরামে ২৮১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের বিশাল যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও সামরিক বিনিয়োগ চুক্তি চূড়ান্ত করার পর সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের গ্রুপ ছবি : ইন্টারনেট

এএফপি

জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর, বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের মূল আলোচনায় যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্মেলনে তাকে সন্তুষ্ট রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন ন্যাটোভুক্ত মিত্র দেশগুলোর নেতারা।

আঙ্কারায় পৌঁছে ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দু’জনের মধ্যে ‘চমৎকার বোঝাপড়ার’ কথা উল্লেখ করেন। একই সাথে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি তার দীর্ঘদিনের অসন্তোষও স্পষ্ট করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ন্যাটো নিয়ে আমি খুবই হতাশ হয়েছিলাম।’

তার এ মন্তব্যই সম্মেলনের মূল অধিবেশনের সুর নির্ধারণ করে দেয়। বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ০৮১৫টায় শুরু হওয়া ওই অধিবেশনে ন্যাটোর বাকি ৩১ সদস্য দেশের নেতার ট্রাম্পের মুখোমুখি হন। ৭৭ বছরের এই ট্রান্স-আটলান্টিক জোটের জন্য সম্মেলনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইউরোপে নিজের ভূমিকা কিছুটা কমিয়ে আনায় যুক্তরাষ্ট্র সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প।

মূল অধিবেশনের আগের দিন ন্যাটো প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৬ সালে ইউরোপের মূল প্রতিরক্ষা ব্যয় ১১ শতাংশ বেড়েছে। এতে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এক বছর আগে যা ছিল ৫৭১ বিলিয়ন ডলার। ট্রাম্পের সাথে নতুন কোনো বিরোধ এড়াতে মঙ্গলবার ন্যাটো সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থের নতুন অস্ত্র ক্রয়চুক্তি ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে তারা প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বার্তা দিতে চায়।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, সামরিক বাজেট বাড়িয়ে এবং রাশিয়ার হুমকির মুখে নিজেদের মহাদেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরো বেশি করে নেয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় মিত্ররা তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে। ন্যাটো যখন ট্রাম্পের দৃষ্টি প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির দিকে রাখতে চাইছে, তখন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের স্থবির প্রচেষ্টাও আবার আলোচনায় এসেছে।

ট্রাম্প বলেছেন, তার বিশ্বাস রাশিয়া ও ইউক্রেন- উভয় পক্ষই যুদ্ধের অবসান চায়। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, দুই পক্ষই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়।’ সম্মেলনের ফাঁকে বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে বৈঠকের আগে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, আলোচনা অচলাবস্থায় থাকায় তুরস্কে যাওয়ার আগে, ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সাথে কথা বলেছেন। জেলেনস্কির সাথে বৈঠকের পর, তিনি আবারো পুতিনের সাথে যোগাযোগ করবেন। ইউরোপ ও কানাডা ২০২৬ ও ২০২৭ সালে প্রতি বছর ৭০ বিলিয়ন ইউরো (৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সামরিক সহায়তা ইউক্রেনকে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে।