নন্দীগ্রাম (বগুড়া) সংবাদদাতা
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় চলতি মৌসুমে আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, সময়মতো সার সরবরাহ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় এবার ধানের ভালো ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। এর পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় আউশের আবাদ করে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তারা।
ভাদ্রের রোদে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এখন আউশ ধান কাটার উৎসব চলছে। কোথাও কৃষকরা কাস্তে হাতে ধান কাটছেন, আবার কোথাও জমি থেকে কেটে আনা ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঠজুড়ে পাকা ধানের সোনালি আভা ও কৃষকের কর্মব্যস্ততায় গ্রামীণ জনপদে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আউশ ধান চাষে সেচ বাবদ বাড়তি খরচ লাগে না বললেই চলে। চলতি মৌসুমে প্রয়োজনীয় সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ধানের বৃদ্ধি ও ফলন বেশ ভালো হয়েছে। উপজেলার হাটলাল গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, এ বছর ১০ বিঘা জমিতে আউশ চাষ করেছিলেন। বিঘাপ্রতি ১৬ থেকে ১৭ মণ ধান পাওয়া গেছে। প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বর্তমানে ধানের দাম কিছুটা ভালো থাকায় উৎপাদন খরচ উঠে লাভের মুখ দেখবেন বলে আশাবাদী তিনি।
নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় দুই হাজার ৬৩৩ হেক্টর জমিতে ব্রি-৯৮, ব্রি-৪৮ ও বিনা-৭ জাতের আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ জমিতে ধান কাটা প্রায় শেষের দিকে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজিউল হক বলেন, নন্দীগ্রামে আউশ ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্জিত হয়েছে। ধানের বাজারদর ভালো থাকলে আগামী মৌসুমে নন্দীগ্রামে আউশ ধানের আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন তিনি।



