বাজেটে সংশোধন নির্বাচিতদের হাতে ছেড়ে দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

চলতি বাজেটে সংশোধনের কাজ আগামী নির্বাচিত সরকারের হাতে ছেড়ে দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সাথে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার কেমন হতে পারে তাও নির্ধারণ করবে ভোটে নির্বাচিত নতুন সরকার। এ সংশোধন ও প্রক্ষেপণের কাজটি হতে পারে আগামী বছরের মার্চ মাসে। নতুন সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় এনে বাজেট সংশোধনের কাজ করা হবে। তবে বাজেটের আকার ২০ হাজার কোটি টাকার মতো কমতে পারে।

গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারের আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এটি ছিল প্রথম সভা। ভার্র্চুয়াল মাধ্যম ব্যবহার করে সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড.সালেহউদ্দিন আহমেদ। এর পর বাজেট ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার মিটিং অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ৩টায় শুরু হয়ে সভা দু’টি টানা দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়।

সভার আলোচ্য সূচির মধ্যে ছিল বাংলাদেশে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি এবং বিশ্ব ও জাতীয় অর্থনীতিতে এরই মধ্যে সূচিত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো (এমটিএমএফ) পর্যালোচনা। চলতি অর্থবছরসহ মধ্যমেয়াদি (২০৬-২০২৭ হতে ২০২৮-২০২৯) সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো (এমটিএমএফ) সূচকসমূহের প্রক্ষেপণের ওপর আলোচনা ও অনুমোদন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সভায় অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি মাল্টিমিডিয়া প্রজেকশন দেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউল আবেদীন। এটির ওপর মূলত আলোচনা করা হয়।

সভায় বলা হয়, সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের শ্লথ গতির কারণে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি পয়েন্ট ৫ শতাংশ কমে যাবে। ফলে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। জুন মাসে দেয়া বাজেটে যার প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল সাড়ে ৫ শতাংশ। অন্য দিকে, চলতি অর্থবছরে কাক্সিক্ষত মাত্রায় মূল্যস্ফীতিও কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বাজেটে বলা হয়েছিল চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে, এটি সম্ভব হবে না, বছর শেষে মূল্যস্ফীতি সংশোধিত টার্গেট দেয়া হয়েছে ৭ শতাংশে।

অন্য দিকে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জিডিপি ও মূল্যস্ফীতির একটি টার্গেট দেয়া হয়। প্রাথমিক এ টার্গেট অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৬ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি হবে সাড়ে ৬ শতাংশ।

বৈঠকে বলা হয়, রাজস্ব খাতের অবস্থা ভালো। গত তিন মাসে প্রবৃদ্ধি ভালো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামীতে রাজস্ব আয় ভালো হবে। যেমন নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর দেয়ার একটি ডেটলাইন দেয়া আছে। বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ দিন রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য বেশ জোর দেয়া হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা এ বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যানকে বার বার বলেছেন, রাজস্ব আয়টা বাড়াতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেন, সভাটি ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা এক মাস এগিয়ে আনা হয়েছে; কিন্তু এখন যা বলা হয়েছে তা আদতে কোনোটিই স্থির থাকবে না। কারণ ফেব্রুয়ারিতে ভোট হলে তখন একটি নতুন সরকার আসবে। তারাই তাদের অগ্রাধিকার ও চাওয়া পাওয়াকে স্থান দিয়ে বাজেট সংশোধন ও নতুন বাজেটটি প্রণয়ন করবেন। মার্চ মাসে সংশোধিত বাজেট বা নতুন বাজেটের প্রাথমিক একটি আকার আমরা জানতে পারব। তিনি বলেন, অর্থবছরের তিন মাসের উপাত্ত আমাদের হাতে রয়েছে। এটি দিয়ে বাজেট সংশোধন করাও সম্ভব নয়।